অধ্যায়টি শুরু করার পূর্বে প্রথমেই বলে নিচ্ছি এখানে শুধু আমি প্রথম অধ্যায়ের টপিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা করেছি। এটি কোন বই নয়।

বিশ্বগ্রামের ধারণা

বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। কানাডিয়ান দার্শনিক হাবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান (Harvard Marshall McLuhan) বিশ্বগ্রাম ধারণাটি প্রবর্তন করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ‘The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic Man’ এবং ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত 'Understanding Media’ বই এ বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে ধারণা দেন। মার্শাল ম্যাকলুহান কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন।

বিশ্বগ্রামের সুবিধা

  1. ইন্টারনেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
  2. ঘরে বসেই উপার্জন করা সম্ভব হয়।
  3. বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
  4. ভৌগলিক দূরত্ব কমে।
  5. কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধি পায়।
  6. ব্যবসা-বানিজ্য, গবেষনা ও সংস্কৃতি বিনিময় সহজ হয়।

বিশ্বগ্রামের অসুবিধা

  1. হ্যাকিং এর মাধ্যমে তথ্য চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  2. সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়।
  3. মিথ্যা খবর প্রচারের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
  4. অটোমেশন সিস্টেম ব্যবহারের ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদান সমূহ

  • হার্ডওয়্যার: বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত হার্ডওয়্যার খুবই জরুরী। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি যন্ত্রগুলো বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • সফটওয়্যার: হা্র্ডওয়্যার পরিচলানার জন্য সফটওয়্যার প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার ইত্যাদি বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • কানেক্টিভিটি: বিশ্বগ্রামের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কানেক্টিভিটি হচ্ছে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড। কানেক্টিভিটি বলতে ইন্টারনেট সংযোগকে বুঝানো হয়। এ উপাদানের মাধ্যমেই ডেটা স্থানান্তর করা হয়।
  • ডেটা: তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে ডেটা। টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি ডেটার অন্তর্ভুক্ত। তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করার জন্য ডেটার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
  • সক্ষমতা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জ্ঞান অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিশ্বগ্রামের প্রভাব কেমন হবে তা সক্ষমতা বা মানুষের জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।

বিশ্বগ্রাম সংশ্লিষ্ট উপাদান

বিশ্বগ্রাম সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো এখানো সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে:-

যোগাযোগ

যোগাযোগ বিশ্বগ্রামের একটি অপরিহার্য সংশ্লিষ্ট উপাদান। কোন মাধ্যম দ্বারা এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষে যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে কমিউনিকেশন বলে। এখানে বেশকিছু যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:-

মোবাইল ফোন

মোবাইল অর্থ ভ্রাম্যমান বা স্থানান্তরযোগ্য। এটি সহজে যেকোনও স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের জনক মার্টিন কুপার। শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক মোবাইল ফোন দিয়ে আরো অনেক সেবা গ্রহণ করা যায়। যেমন: টেক্সট মেসেজ, মাল্টিমিডিয়া মেসেজ, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ক্যামেরা, গেমিং ইত্যাদি। যেসব মোবাইল ফোন এসব সেবা এবং কম্পিউটারের সাধারণ কিছু সুবিধা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্টফোন নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রথম চালু হয় ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে।

ইন্টারনেট

ইন্টারনেট হল বিশ্বেজুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ইন্টারনেট এ আইপি অ্যাড্রেস এর মাধ্যমে ডেটা আদান প্রদান করা হয়। বিশ্বে ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট চালু হয়। ইন্টারনেটের জনক ভিনটন জি কার্ফ। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করে ইন্টারনেট।

২০০০ সালে বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১,৮৬,০০০ যা ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৬,১৭,৩০০, যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাত্র ০.৪%। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬২% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৯৩.৭০২ মিলিয়ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ 4G নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রদান শুরু করে।

স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইট শব্দের অর্থ কৃত্রিম উপগ্রহ। পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে এমন বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ হচ্ছে স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইট পুরো পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে ৩৬,০০০ কিমি বা ২৩,০০০ মাইল দূরত্বে স্থাপন করা হয়। মোবাইলফোনের জিপিএস স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে কাজ করে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হল প্রথম বাংলাদেশী যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি থ্যালস অ্যালেনিয়া স্পেস দ্বারা নির্মিত এবং ১১ মে, ২০১৮ এ চালু হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্যাটেলাইটটির নামকরণ করা হয়েছে। একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট চালু করতে বাংলাদেশ ৫৭ তম দেশে পরিণত হয়েছে। উপগ্রহের মোট ব্যয় ছিল ২৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ বিদেশী উপগ্রহের উপর নির্ভরশীল ছিল। এতে প্রতিবছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ চালু করে বাংলাদেশ খরচ বাঁচাতে পারে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডোর মতো দুর্যোগের সময় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ আনতে সহায়তা করবে।

ই-মেইল

ইলেক্ট্রনিক মেইলকে সংক্ষেপে ইমেইল বলে। রে টমলি সন ইমেইলের জনক। ইমেইল এর মাধ্যমে টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিওসহ যেকোনো ধরনের ফাইল অতি দ্রুত পাঠানো যায়। একটি ইমেইলের ২টি অংশ থাকে। যেমন projuktilab@gmail.com হচ্ছে একটি ইমেইল অ্যাড্রেস। প্রথম অংশটি ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং দ্বিতীয় অংশটি ডোমেইন নেম। যেমন: projuktilab হচ্ছে ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং gmail.com হচ্ছে ডোমেইন নেম। কিছু জনপ্রিয় ইমেইল সেবাদানকারীর নাম: gmail.com, yahoo.com, hotmail.com

ইমেইল পাঠানোর জন্য একটি হার্ডওয়্যার (মোবাইল/কম্পিউটার), ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইমেইল অ্যাড্রেস প্রয়োজন হয়।

ইমেইলের সুবিধা:- দ্রুত গতিতে ডেটা আদান প্রদান করা যায়, একইসাথে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে বার্তা পাঠানো যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব উন্নতমানের।

জিপিএস (GPS)

জিপিএস (GPS) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Global Positioning System যার মাধ্যমে কোন স্থান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। জিপিএস পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় নিমেষেই আমাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে ও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার দিকনির্দেশনা দিতে পারে। জিপিএস কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ণয়ের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। এটি মানচিত্র তৈরি, পঠন ও ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এছাড়াও, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা, দূরত্ব প্রভৃতি নির্ণয় করা যায়।

রিজার্ভেশন সিস্টেম

ঘরে বসে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে যানবাহনের টিকেট সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে রিজার্ভেশন সিস্টেম বলে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজে ছক কেটে আসন বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে বরাদ্দ করার আসন ব্যবস্থা প্রচলিত পদ্ধতিতে থাকে না। রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে দূর-দরান্ত থেকে আসন বরাদ্দ করা সম্ভব।

টেলিকনফারেন্সিং

ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থান করে টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে টেলিকনফারেন্সিং। ১৯৭৫ সালে মরি টারফ টেলিকনফারেন্সিং পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। টেলিকনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার, সভা কিংবা দলবদ্ধভাবে যোগাযোগ করা যায়।

ভিডিও কনফারেন্সিং

ভিডিও কনফারেন্সিং হলো একটি অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে মনিটর বা পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী অবস্থান থেকে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে ডাক্তার-রোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ-জনগন, পরিবারের সদস্যগণ একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারেন। ভিডিও কনফারেন্সিং এর কিছু জনপ্রিয় সফটওয়্যারের নাম: Skype, Whatsapp, IMO, Messenger ইত্যাদি।

কর্মসংস্থান

ইন্টারনেট ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের সুযোগকে আউটসোর্সিং বলা হয়। আউটসোর্সিং এর কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের নাম: ওডেস্ক (বর্তমান: আপওয়ার্ক), ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি। যারা এসব মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন তাদের ফ্রিল্যান্সার বলে। অপরদিকে, যারা মার্কেটপ্লেস এ কাজ দেয় তাদের বায়ার বলে। ফ্রিল্যান্সাররা নির্দিষ্ট শ্রম ঘন্টায় কাজ করে থাকে।

উদাহরণ: আরিফের একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। সে জানে না কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় কিংবা সে নিজের কাজ নিজে করতে আগ্রহী নয়। তাই, সে চিন্তা করলো কাউকে দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করানোর। তারপর, সে একটি স্থানে ঘোষনা দিল যে, তার একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। রাকিব নামের একজন ব্যক্তি তার ওয়েবসাইটটি করে দিল। আরিফ ওয়েবসাইটটি বুঝে পাওয়ার পর রাকিবকে টাকা পরিশোধ করে দিল।

উপরের উদাহরণে, আরিফ আউটসোর্সিং করেছেন এবং রাকিব ফ্রিল্যান্সিং করেছেন আর যে স্থানে ওয়েবসাইট তৈরি করার ঘোষনা দিল সেটা হল মার্কেটপ্লেস।

ফ্রিল্যান্সিং এ সময় ও স্থানের বাঁধাধরা নিয়ম না থাকায় প্রত্যেকেই তার দক্ষতা অনযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং পেশার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অবশ্যই কোন একটি নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে, তরুন-তরুণীদের দক্ষতা অর্জন ছাড়াই ফ্রিল্যান্সিং করার চেষ্টা করছে যার ফলে একদিকে যেমন মার্কেটপ্লেসগুলোর ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের ক্ষেত্রসমূহ: ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার প্রচুর সেক্টর রয়েছে। কয়েকটি জনপ্রিয় সেক্টর: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং ইত্যাদি।

শিক্ষা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পাঠদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিদেশে গিয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কারণ, বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশির ভাগই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধ্য থাকে না। কারণ সেসব দেশে থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। দূরশিক্ষণ বা ডিসটেন্স লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজ দেশে বসেই পড়ালেখা করতে পারে। ডিসটেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ঘরে বসেই স্বনামধন্য শিক্ষকদের পাঠদান গ্রহণ করা যায়। সারা বিশ্বের স্নাতকদের এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো ভাবে দূরশিক্ষণের সাথে জড়িত।

10minuteschool.com, shikkhok.org, khanacademy.org ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই স্বনামধন্য শিক্ষকদের ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে। এখন, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সার্টিফিকেটও দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে এখন ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ গ্রহণ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, রোগীর সাথে ভিডিও শেয়ারিং এর মাধ্যমে আলোচনা করে ডাক্তার রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থান করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়াকে টেলিমিডিসিন বলে।

গবেষণা

বর্তমানে ঘরে বসেই গবেষনা করা সম্ভব। মানুষ এখন সাহিত্য, শিল্প বা সমাজবিজ্ঞান অথবা গণিত, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন, তারা কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া সেই গবেষণার কথা চিন্তাই করতে পারে না। গুগল(Google), উইকিপিডিয়া(Wikipedia) ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই যেকোনো বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।

অফিস

তথ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন কাজ অনেক সহজেই সম্পন্ন করা যায়। অফিস অটোমেশন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম যেমন: ডকুমেন্ট তৈরি করা, সংরক্ষণ, হিসাব ইত্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় অফিসের স্বচ্ছতা, কাজের দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়ে।

বাসস্থান

সাধারণভাবে, আমরা যেখানে বাস করি সেটাই বাসস্থান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট হোম। স্মার্ট হোম স্মার্ট হোম হচ্ছে এমন একটি বাসস্থান য়েখানে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বাড়ির প্রয়োজনীয় সিস্টেম(যেমন: ফ্যান, লাইট, সিকিউরিটি ইত্যাদি) কে নিয়ন্ত্রন করা যায়। স্মার্ট হোম তখনই হয়ে উঠবে যখন দালানে স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। যেগুলো ধোঁয়া, আগুন শনাক্ত করতে পারবে, নির্দিষ্ট জায়গা বা মানুষের কাছে তথ্য পাঠাতে পারবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগুন নেভাতেও পারবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য

ব্যবসা বানিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষ্ময়কর ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত, মানুষ কোন পন্য কেনার জন্য বাজারে যেতে হয়। ই-কমার্স বাজারে গিয়ে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের ধারণাটি বদলে দিয়েছে। ই-কমার্স এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স কমার্স যার মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যায়। পন্য ক্রয়ের পর একজন ব্যক্তি অনলাইনেই মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। অনলাইনে মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়াকে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম বলা হয়। যেমন: পেপাল, পায়োনিয়ার, স্ক্রিল, নেটেলার ইত্যাদি পেমেন্ট মেথডের মাধ্যমে ঘরে বসেই মূল্য পরিশোধ করা যায়। বাংলাদেশে ঘরে বসে মূল্য পরিশোধের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। জনপ্রিয় কিছু মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মধ্যে রয়েছে: বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি। ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অর্থ পাঠানো। ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ATM যার পূর্ণরূপ Automatic Teller Machine.

পন্য লেনদেনের ধরণ অনুযায়ী ই-কমার্স চার প্রকার:-

  • B2B (Business to Business)
  • B2C (Business to Consumer)
  • C2B (Consumer to Business)
  • C2C (Consumer to Consumer)

ই-কমার্সের সুবিধা

১। ঘরে বসেই পন্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।
২। যাতায়াত খরচের প্রয়োজন হয় না।
৩। অফিস ভাড়া না করে বাসায় বসেও ব্যবসা করা যায় ফলে ব্যবসা শুরু করতে খরচ কম হয়।
৪। কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে পন্য সরবারাহ করা যায়।

ই-কমার্সের অসুবিধা

১। অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সমস্যা হয়ে থাকে।
২। ই-কমার্স বাস্তবায়নে দক্ষ লোক প্রয়োজন।
৩। পন্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার সম্ভবনা থাকে।

সংবাদ

খবর জানার জানার এখন পত্রিকা কেনার তেমন কোন প্রয়োজন হয় না। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে খবর পাওয়া যায়। অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া খবরগুলো প্রকাশিত হয়। তবে, নিউজ পোর্টাল বাছাই করার সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল মিথ্যা খবর প্রকাশ করে থাকে। কয়েকটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল হচ্ছে: prothomalo.com, jugantor.com, bd-pratidin.com ইত্যাদি।

বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ

তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে এখন মানুষ বহুমুখী বিনোদন উপভোগ করতে পারছে। যেমন: ইউটিউব এর মাধ্যমে যেকোন ধরনের ভিডিও দেখা, স্মার্টফোনগুলোর মাধ্যমে গেইম খেলা ইত্যাদি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমান যুগের খুব জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশ্বের সকল মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এসব যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেইসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় যেটি মার্ক জুকারবার্গ ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।

সাংস্কৃতিক বিনিময়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, বিনোদন মাধ্যম ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানুষের একে অপরের সাথে সাংস্কৃতিক বিনিময় করতে সক্ষম। ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে কোনো ব্যাক্তি তার নিজস্ব লেখা প্রকাশ করতে পারে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুফলের পাশাপাশি বেশকিছু কুফল রয়েছে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম – ব্যাখা কর। [রা. বো-১৯]

বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য বেশকিছু উপাদান প্রয়োজন এবং প্রতিটি উপাদান তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। তাই বলা যায়, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম।


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোর নিয়ে এসেছে – ব্যাখা কর। [দি. বো-১৯]

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এ যুগের চালিকাশক্তি যা পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে।


"সংবাদে আজ যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে যুক্ত হতে পারে" - ব্যাখা কর। [মাদ্রাসা বোর্ড - ২০১৯]

ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে আজ যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে সংবাদে যুক্ত হতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিং হলো একটি অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে মনিটর বা পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী অবস্থান থেকে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে।


তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম – ব্যাখা কর। [রা. বো-১৯]

বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য বেশকিছু উপাদান প্রয়োজন এবং প্রতিটি উপাদান তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। তাই বলা যায়, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম।


“বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ডই কানেক্টিভিটি" - বিশ্লেষণ কর। [দি.বো-১৯]

বিশ্বগ্রামের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কানেক্টিভিটি হচ্ছে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড। কানেক্টিভিটি বলতে ইন্টারনেট সংযোগকে বুঝানো হয়। এ উপাদানের মাধ্যমেই ডেটা স্থানান্তর করা হয়।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কি বুঝ? [ঢা. বো-১৬]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমান যুগের খুব জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশ্বের সকল মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম।


ই-কমার্স ব্যবসা বানিজ্যকে সহজ করে দিয়েছে-ব্যাখা [মা.বো-১৮]

ই-কমার্স বাজারে গিয়ে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের ধারণাটি বদলে দিয়েছে। ই-কমার্স এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স কমার্স যার মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যায়। ফলে, যাতায়াত খরচের প্রয়োজন হয় না। পন্য ক্রয়ের পর একজন ব্যক্তি অনলাইনেই মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয়, কিন্তু বাস্তব চেতনা উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। এটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিম্যুলেশন তত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরি হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাল্পনিক যেকোনো দৃশ্য দেখা ও শোনা যায়। কতগুলো যন্ত্রের সমন্বয়ে কাল্পনিক ঘটনাগুলো বাস্তবের ন্যায় রূপ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে, বডি স্যুট, ডেটা গ্লোভস, চশমা ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি খুব বেশী সহজলভ্য না হলেও প্রাত্যহিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বাস্তবে অবস্থান করেও কল্পনাকে ছুঁয়ে দেখা সম্ভব। এখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কিছু প্রয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হল:-

  • গাড়ি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্য গাড়ি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। গাড়ি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য চালককে একটি নির্দিষ্ট আসনে বসতে হয়। চালকের মাথায় একটি হেড মাউন্টেড ডিসপ্লের মাধ্যমে রাস্তার আশে পাশের নমুনা দেখানো হয়।
  • বিমান প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কোন ধরনের ঝুঁকি ও দূর্ঘটনা ছাড়াই বিমান প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। ফ্লাইট সিমুলেশনের মাধ্যমে বিমান চালনার যাবতীয় কৌশল রপ্ত করা যায়।
  • চিকিৎসা ক্ষেত্র: বিভিন্ন ধরনের জটিল অপারেশন, ডিএনএ পর্যালোচনা, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।
  • বিনোদন ক্ষেত্র: আধুনিক যুগে বেশকিছু চলচিত্র ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হচ্ছে।
  • জাদুঘরে: জাদুঘরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পাহাড়, গুহা, প্রত্মত্বাত্তিক নিদর্শন ইত্যাদি প্রদর্শন করা যায়। ফলে, দর্শনার্থী বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অসুবিধা

  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • এটি বাস্তবায়ণ ব্যয়বহুল।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষ অতিরিক্ত কল্পনাপ্রবণ হয়ে উঠে। বাস্তবতার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (প্রায় প্রতি বছর কোনো না কোনো বোর্ডে এসেছে; শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

কম্পিউটারের তৈরি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ, যেখানে ব্যবহারকারী হেডসেট, গ্লভস ও সেন্সরের সাহায্যে নিজেকে ওই পরিবেশের ভেতরেই আছে বলে অনুভব করে এবং বস্তুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।

সহজ উদাহরণ

VR হেডসেট পরে ঘরে বসেই পিরামিডের ভেতর হেঁটে বেড়ানো যায়। মেডিকেল ছাত্ররা ভার্চুয়াল রোগীর অপারেশন অনুশীলন করে — ভুল হলেও কারও ক্ষতি হয় না।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেমের কার্যপ্রণালি (চিত্র)

  1. ব্যবহারকারী (হেডসেট ও গ্লভস পরা)
  2. সেন্সর (মাথা ও হাতের নড়াচড়া ধরে)
  3. কম্পিউটার (৩ডি ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি)
  4. আউটপুট (ছবি, শব্দ ও স্পর্শ অনুভূতি)

ফিডব্যাক: ব্যবহারকারী বাস্তবের মতো অনুভব করে ও আবার নড়াচড়া করে।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও ব্যবহার

ক্ষেত্র ভিআর কীভাবে কাজে লাগে
শিক্ষা বিপজ্জনক রাসায়নিক ল্যাব ভার্চুয়ালি করা, ইতিহাস/ভূগোলের স্থান ঘুরে দেখা
গবেষণা অণু-পরমাণু বা মহাকাশের ত্রিমাত্রিক মডেল ভেতর থেকে দেখা
চিকিৎসা সার্জারি প্রশিক্ষণ, ভয় (ফোবিয়া) কাটানোর থেরাপি, রোগীর পুনর্বাসন
বিনোদন ও প্রশিক্ষণ গেমস, ফ্লাইট সিমুলেটর, সেনা প্রশিক্ষণ

যন্ত্রাংশ: হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD), ডেটা গ্লভস, মোশন সেন্সর/ট্র্যাকার, শক্তিশালী গ্রাফিক্স কম্পিউটার।

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসায় ভিআর-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো:
১. ভূমিকা: ভিআর-এর এক বাক্যে সংজ্ঞা।
২. শিক্ষা — বিপজ্জনক পরীক্ষা নিরাপদে, ঘরে বসে ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ।
৩. গবেষণা — ত্রিমাত্রিক মডেলে অণু বা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ।
৪. চিকিৎসা — সার্জারি অনুশীলন, থেরাপি।
৫. উপসংহার: খরচ বেশি হলেও নিরাপদ, কার্যকর ও সময়সাশ্রয়ী।

MCQ পয়েন্ট

VR-এ মাথায় পরার ডিভাইস = HMD • AR বাস্তব জগতের ওপর ডিজিটাল তথ্য বসায় (যেমন Pokémon Go), VR-এ পুরো পরিবেশই কৃত্রিম • বিশ্বগ্রাম ধারণার প্রবক্তা মার্শাল ম্যাকলুহান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মানুষের চিন্তা ভাবনাকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রে রূপ দেওয়ায় হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: রোবটিক্স, মেশিন লার্নিং, টেক্সট টু স্পিচ, স্পিচ টু টেক্সট, ভিশন ইত্যাদি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১। আর্টিফিসিয়াল ন্যানো ইন্টেলিজেন্স
২। আর্টিফিসিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স
৩। আর্টিফিসিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজঃ PROLOG, C, C++, Java ইত্যাদি।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆ (গাড়ি চালনা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে ভূমিকা)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

যন্ত্র বা কম্পিউটারকে মানুষের মতো চিন্তা করা, শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সমস্যা সমাধান করার সক্ষমতা দেওয়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন জন ম্যাকার্থি (১৯৫৬)।

সহজ উদাহরণ

ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ছবি দেখে মুখ চেনা, ইউটিউবের ভিডিও সাজেশন, আর চালকবিহীন গাড়ি।

চালকবিহীন গাড়িতে AI কীভাবে কাজ করে (চিত্র)

  1. ইনপুট (ক্যামেরা, রাডার, জিপিএস)
  2. AI সিস্টেম (ছবি চেনে, শেখে, ভাবে)
  3. সিদ্ধান্ত (থামো / ঘোরো / গতি কমাও)
  4. কাজ (স্টিয়ারিং ও ব্রেক নিয়ন্ত্রণ)

ফিডব্যাক: নতুন তথ্য থেকে AI আবার শেখে।

গাড়ি চালনায় AI (প্রশ্নে আসা উদাহরণ)

  • সেন্সর ও ক্যামেরা রাস্তা, গাড়ি ও মানুষ শনাক্ত করে
  • AI সামনের বাধা দেখে ব্রেক বা মোড় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়
  • মানবিক ভুল (ঘুম, অমনোযোগ) কমে, দুর্ঘটনা কমার সম্ভাবনা বাড়ে
  • সীমাবদ্ধতা: খরচ বেশি, সাইবার ঝুঁকি, দায় কার

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে AI-এর ভূমিকা

ক্ষেত্র ভূমিকা
শিল্প-কারখানা স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, ত্রুটি আগেই ধরা
স্বাস্থ্য এক্স-রে/রিপোর্ট দেখে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা
ব্যাংক ও ব্যবসা জালিয়াতি শনাক্ত, চ্যাটবট সেবা
কৃষি ফসলের রোগ চেনা, সেচ ও সার নির্ধারণ

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে AI-এর ভূমিকা মূল্যায়ন করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলতে AI, IoT, রোবটিক্স ও বিগ ডেটার সমন্বয় বোঝায় → উপরের টেবিলের ক্ষেত্রগুলো উদাহরণসহ → ইতিবাচক দিক (দক্ষতা, গতি) → নেতিবাচক দিক (কর্মসংস্থান ঝুঁকি, নির্ভরতা) → তোমার মত: দক্ষতা বাড়লে সুফলই বেশি।

MCQ পয়েন্ট

AI শব্দের প্রবক্তা জন ম্যাকার্থি • AI-এর শাখা: মেশিন লার্নিং, কম্পিউটার ভিশন, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থা • চালকবিহীন গাড়ি AI-এর প্রয়োগ

রোবটিকস

রোবটিক্স হচ্ছে প্রযুক্তির এমন একটি শাখা যেখানে রোবটের নকশা ডিজাইন, গঠন, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। Robot শব্দটি স্লাভিক্স শব্দ Robota থেকে এসেছে যার অর্থ শ্রমিক। রোবট একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র যা কাজের প্রয়োজনে রোবটকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণ পর্যন্ত ঘোরানো যায়। রোবটের মাধ্যমে বিপদজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুল‌ো সম্পন্ন করা হয়। যেমন: ভারি যন্ত্রাংশ উঠানামা, যন্ত্রাংশ সংযোজন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, মহাকাশ গবেষণা, চিকিৎসা ও সামরিকক্ষেত্র ইত্যাদি।


রোবোটের বিভিন্ন অংশের নাম: পাওয়ার সিস্টেম, মুভেবল বডি:, সার্কিট, অ্যাকচুয়েটর, প্রোগ্রাম্যাবল ব্রেইন, সেন্সর ইত্যাদি। অ্যাকচুয়েটর হচ্ছে এমন একটি মোটর যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরানো যায়।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆ (শিল্প-কারখানা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

রোবট হলো প্রোগ্রাম করা যায় এমন বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক যন্ত্র যা মানুষের মতো কাজ করতে পারে। রোবটের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবহারের বিজ্ঞানকে রোবটিক্স বলে। "রোবট" শব্দটি এসেছে চেক শব্দ robota (বাধ্যতামূলক শ্রম) থেকে; "রোবটিক্স" শব্দ ব্যবহার করেন আইজাক অ্যাসিমভ ।

সহজ উদাহরণ

গাড়ির কারখানায় রোবট-হাত ঢালাই ও রং করে; ঘর পরিষ্কারের ভ্যাকুয়াম রোবট নিজে নিজে ঝাড়ু দেয়।

রোবটের মৌলিক কাঠামো (চিত্র)

  1. সেন্সর (দেখা, ছোঁয়া, তাপ বোঝা)
  2. কন্ট্রোলার (প্রসেসর ও প্রোগ্রাম)
  3. অ্যাকচুয়েটর (মোটর, হাত, চাকা)
  4. কাজ (ঢালাই, বহন, প্যাকিং)

ফিডব্যাক: কাজ ঠিক হলো কি না সেন্সর আবার জানায়।

শিল্প-কারখানা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার

ক্ষেত্র ব্যবহার
শিল্প-কারখানা ঢালাই, রং, ভারী জিনিস বহন, নির্ভুল জোড়া লাগানো
চিকিৎসা সূক্ষ্ম রোবটিক সার্জারি
সামরিক ও উদ্ধার বোমা নিষ্ক্রিয়, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার
মহাকাশ মঙ্গলের মাটি পরীক্ষার রোভার
ঘরোয়া ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ডেলিভারি রোবট
সুবিধা অসুবিধা
নির্ভুল ও ক্লান্তিহীন কাজ; বিপজ্জনক কাজে মানুষের ঝুঁকি কমে; উৎপাদন বাড়ে তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল; কিছু কাজে মানুষের কর্মসংস্থান কমে; যান্ত্রিক ত্রুটিতে ক্ষতির ঝুঁকি

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: শিল্প-কারখানায় রোবটের ব্যবহার বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: রোবটের সংজ্ঞা → কারখানার কাজ (ঢালাই, রং, প্যাকিং) → উৎপাদন ও মান বৃদ্ধি → বিপজ্জনক কাজে নিরাপত্তা → অসুবিধা (ব্যয়, বেকারত্ব) → সিদ্ধান্ত: দক্ষ জনশক্তি তৈরি করলে রোবট সহায়ক শক্তি।

MCQ পয়েন্ট

রোবটিক্স শব্দের প্রবক্তা আইজাক অ্যাসিমভ • রোবটের প্রধান অংশ: সেন্সর, কন্ট্রোলার, অ্যাকচুয়েটর • "robota" = বাধ্যতামূলক শ্রম

ক্রায়োসার্জারি

ক্রায়ো (Cryo) একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ হচ্ছে "বরফের মত ঠাণ্ডা" বা "খুবই ঠাণ্ডা" এবং সার্জারি (Surgery) শব্দের অর্থ হচ্ছে "হাতের কাজ"। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরের অস্বাভাবিক টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে ক্রায়োসার্জারি।

নিম্ন তাপমাত্রায় রোগ আক্রান্ত টিস্যুতে নাইট্রোজেন / আর্গন গ্যাস স্প্রে করার জন্য 'ক্রায়োগান' যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরে সার্জারির জন্য 'ক্রায়োপ্র‌োব' যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে তাপমাত্রা -৪১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রা হওয়ায় ঔ স্থানের অক্সিজেন ও রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে রোগাক্রান্ত কোষগুলো ক্ষতিসাধন হয়। এটি ন্যূনতম ধকল সহি্ষ্ণু শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব। ত্বকের ক্যান্সার, ত্বকের টিউমার, যকৃত ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতির জটিল কোন পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (পদ্ধতি বর্ণনা ও চিকিৎসায় যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ — বহু বোর্ডে এসেছে)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

"ক্রায়ো" মানে অতি ঠান্ডা। অতি নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রধানত তরল নাইট্রোজেন, প্রায় −১৯৬°C ) অস্বাভাবিক বা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ জমিয়ে ধ্বংস করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে ক্রায়োসার্জারি বলে।

সহজ উদাহরণ

ত্বকের আঁচিল (wart) ডাক্তার তরল নাইট্রোজেন স্প্রে করে জমিয়ে ফেলেন; কয়েকদিনেই আঁচিল শুকিয়ে ঝরে যায়, কাটাকাটি লাগে না।

ক্রায়োপ্রোব দিয়ে টিউমারের চারপাশে বরফের গোলক তৈরি (চিত্র)

  • তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ: ক্রায়োপ্রোবে তরল নাইট্রোজেন পৌঁছায়
  • ক্রায়োপ্রোব: তাপমাত্রা প্রায় −১৯৬°C
  • বরফের গোলক (আইস বল): এখানেই কোষ জমে যায়
  • টিউমার / অস্বাভাবিক কোষ: জমে ফেটে ধ্বংস হয়
  • সুস্থ টিস্যু: প্রায় অক্ষত থাকে

চিকিৎসা পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)

  1. আক্রান্ত স্থানে ক্রায়োপ্রোব বসানো বা তরল নাইট্রোজেন স্প্রে করা
  2. অতি ঠান্ডায় কোষ জমে যাওয়া — কোষের ভেতরের পানি বরফ হয়ে কোষ ফেটে যায়
  3. দরকার হলে জমানো ও গলানো কয়েকবার করা
  4. মৃত কোষ ধীরে ধীরে শরীর নিজে শোষণ করে নেয়
ব্যবহার সুবিধা অসুবিধা
ত্বক ও চোখের ক্যান্সার, আঁচিল, প্রোস্টেট, জরায়ুমুখ ও যকৃতের টিউমার কম রক্তক্ষরণ, কম ব্যথা, কম সময়ে সুস্থতা, হাসপাতালে কম থাকা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম ব্যয়বহুল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক লাগে, কখনো আশপাশের সুস্থ কোষের ক্ষতি

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: ক্রায়োসার্জারির চিকিৎসা পদ্ধতির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (গ/ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: সংজ্ঞা ও তাপমাত্রা → পদ্ধতির ৪ ধাপ → প্রচলিত অস্ত্রোপচারের সাথে তুলনা (কাটাকাটি কম, রক্তক্ষরণ কম, দ্রুত সুস্থতা) → সীমাবদ্ধতা → উপসংহার: ছোট ও নির্দিষ্ট স্থানের টিউমারে এটি যুক্তিযুক্ত ও কার্যকর।

MCQ পয়েন্ট

তরল নাইট্রোজেনের তাপমাত্রা প্রায় −১৯৬°C • ক্রায়ো = অতি ঠান্ডা • ক্রায়োসার্জারিতে প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে রক্তক্ষরণ কম

বায়োমেট্রিক্স

মানুষের শরীরবৃত্তীয় বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মাপা এবং বিশ্লেষণ করার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে সকল সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।


বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা: উচ্চ নিরাপত্তায় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, সহজেই কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়।

মানুষের বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স ২ ধরনের হতে পারে:-

১। শরীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:

ফিঙ্গারপ্রিন্ট: মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সম্পূর্ণ ইউনিক এবং এটি আজীবন ইউনিক থাকে বলে সহজেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ চাইলেও ডুপ্লিকেট বা নকল করতে পারে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। বায়োমেট্রিক্সের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকর পদ্ধতি।


আইরিস: আইরিস হচ্ছে চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয়। আইরিস বিশ্লেষণের মাধ্যমে কম সময়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়।


মুখমন্ডলের অববয়: মানুষের মুখের গঠন ও আকৃতির মাধ্যমে কোন একটি ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্তকরা সম্ভব।


হ্যান্ড জিওমিট্রি: মানুষের হাতের গঠন, সাইজ ও আকৃতির মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে হ্যান্ড জিওমিট্রি।


ডিএনএ পর্যবেক্ষণ: ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারিক পদ্ধতির নাম ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং। ডিএনএ টেস্ট করার জন্য জৈবিক নমুনা (যেমন: ব্যক্তির রক্ত, দাঁত, লালা, চুল ইত্যাদি) প্রয়োজন হয়।

২। আচরণগত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:

কন্ঠস্বর: মাইক্রোফোনের সাহায্যে কন্ঠস্বর গ্রহণ করে পূর্বধারণকৃত কন্ঠস্বরের সাথে মিলিয়ে কোন ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।


স্বাক্ষর: স্বক্ষরের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে লেখার সময় চাপ, লেখার গতি, ধরণ মিলিয়ে দেখা হয়।


টাইপিং গতি: এ পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে তার গোপন কোড টাইপ করানো হয়। টাইপ করার সময় টাইপিং স্পিড পূর্ব ধারণকৃত স্পিডের সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বনাম রেটিনা — কোনটি বেশি উপযোগী)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

মানুষের দেহের অনন্য বৈশিষ্ট্য (আঙুলের ছাপ, চোখের মণি/রেটিনা, মুখমণ্ডল, কণ্ঠস্বর, DNA) ব্যবহার করে পরিচয় শনাক্ত বা যাচাই করার প্রযুক্তিই বায়োমেট্রিক্স।

সহজ উদাহরণ

অফিসে আঙুল ছুঁইয়ে হাজিরা দেওয়া; মোবাইলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক; বাংলাদেশে সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ দেওয়া।

বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি (চিত্র)

  1. নিবন্ধন (আঙুল বা চোখ স্ক্যান)
  2. টেমপ্লেট তৈরি করে ডেটাবেজে জমা
  3. যাচাই (নতুন স্ক্যান ও ডেটাবেজ মিল)
  4. ফলাফল: মিললে প্রবেশ, না মিললে বাতিল

ফিঙ্গারপ্রিন্ট বনাম রেটিনা স্ক্যান (প্রশ্নে আসা তুলনা)

বিষয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেটিনা স্ক্যান
কীসের উপর নির্ভর আঙুলের খাঁজ ও উঁচু রেখার নকশা চোখের রেটিনার রক্তনালির নকশা
নির্ভুলতা/নিরাপত্তা ভালো, তবে ধুলা বা ক্ষতে সমস্যা হতে পারে অত্যন্ত নির্ভুল ও জাল করা কঠিন
খরচ ও সহজতা সস্তা, দ্রুত, ব্যবহার সহজ ব্যয়বহুল, ব্যবহারকারীর অস্বস্তি বেশি
কোথায় উপযোগী অফিস হাজিরা, মোবাইল, ভোটার ও সিম নিবন্ধন উচ্চ নিরাপত্তার জায়গা (ল্যাব, ব্যাংক ভল্ট, প্রতিরক্ষা)

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: স্বয়ংক্রিয় প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না রেটিনা — কোনটি অধিক উপযোগী? [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: দুটির সংজ্ঞা → টেবিলের মতো তুলনা (নির্ভুলতা, খরচ, গতি) → উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ধরন দেখে সিদ্ধান্ত: সাধারণ হাজিরা/প্রবেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (সস্তা ও দ্রুত); অতি গোপনীয় জায়গায় রেটিনা । যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত লেখা ঘ-এর মূল নম্বর পায়।

MCQ পয়েন্ট

ফিঙ্গারপ্রিন্ট = রিজ ও ভ্যালি নকশা • রেটিনা স্ক্যান = রক্তনালির নকশা • বায়োমেট্রিক্সের ধাপ: নিবন্ধন → সংরক্ষণ → যাচাই

বায়োইনফরমেট্রিক্স

বায়োইনফরম্যাটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা সমূহ সমাধান করা হয়। এটি জৈবিক তথ্য পরিচালনায় কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগ যেখানে জৈবিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করার জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, জীব সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার কাজে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকে বায়োইনফরমেট্রিক্স বলে। বায়োইনফরম্যাটিক্সে ব্যবহৃত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড, নিউক্লিক এসিড এবং বায়োইনফরমেট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞানসমূহ হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার। তবে, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি।

বায়োইনফরমেট্রিক্স এর প্রয়োগ: জিন থেরাপি, ওষুধ তৈরি, মলিকিউলার মেডিসিন, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆ (ব্যাখ্যা ও প্রয়োগক্ষেত্র; জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে সম্পর্ক)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মিলিয়ে জৈবিক ডেটা (DNA, RNA, প্রোটিনের গঠন) সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার বিজ্ঞানই বায়োইনফরমেটিক্স।

সহজ উদাহরণ

কোনো ভাইরাসের জিনের গঠন কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করে তার ওষুধ বা টিকা বানানোর পথ খোঁজা। বাংলাদেশে পাটের জিনোম সিকুয়েন্স (২০১০) এই ক্ষেত্রের বড় অর্জন।

বায়োইনফরমেটিক্সের কাজের ধারা (চিত্র)

  1. জৈব নমুনা (DNA, প্রোটিন)
  2. সিকুয়েন্সিং (ডেটা তৈরি)
  3. ডেটাবেজ (যেমন GenBank)
  4. কম্পিউটার বিশ্লেষণ
  5. ফলাফল: রোগ নির্ণয়, ওষুধ আবিষ্কার

প্রয়োগক্ষেত্র

  • চিকিৎসা: বংশগত রোগ শনাক্ত, ব্যক্তিভেদে ওষুধ নির্বাচন, নতুন ওষুধ আবিষ্কার
  • কৃষি: উন্নত ফসলের জাত তৈরিতে জিনের তথ্য বিশ্লেষণ
  • ফরেনসিক: DNA মিলিয়ে অপরাধী শনাক্ত
  • জিনোম গবেষণা: মানব জিনোম প্রকল্প (শেষ ২০০৩) থেকে প্রাপ্ত বিপুল ডেটার ব্যবস্থাপনা

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োইনফরমেটিক্স একে অপরের পরিপূরক

বায়োইনফরমেটিক্স জিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন জিন কাজে লাগবে তা বলে দেয়; জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সেই জিন কেটে-জুড়ে নতুন জীব বা পণ্য তৈরি করে। এক পক্ষ তথ্য দেয়, অন্য পক্ষ তা প্রয়োগ করে — তাই একটি ছাড়া অপরটি পূর্ণ সুফল দেয় না।

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োইনফরমেটিক্স একে অপরের পরিপূরক — বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: দুটির সংজ্ঞা → বায়োইনফরমেটিক্স কী যোগায় (জিনের তথ্য) → জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কী করে (জিন পরিবর্তন) → উদাহরণ (রোগ-প্রতিরোধী ফসল) → উপসংহার।

MCQ পয়েন্ট

বায়োইনফরমেটিক্স = জীববিজ্ঞান + কম্পিউটার + আইটি • মানব জিনোম প্রকল্প সম্পন্ন ২০০৩ • GenBank একটি জৈব ডেটাবেজ

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

বংশগতিবস্তুর মাধ্যমে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য তাদের ‌সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বংশগতিবস্তুগুলো হল ক্রোমোসোম, জিন, ডিএনএ এবং আরএনএ। বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। মানবদেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। আর ডিএনএ(DNA-Deoxyribonucleic Acid) ক্রোমোসোম এর প্রধান উপাদান। জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম হচ্ছে জিন। জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি জিন থাকে। আবার একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এক কোষ থেকে সুনির্দিষ্ট জীন অন্য কোষে স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কাঙ্খিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য জীবের ডিএনএ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল বলে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট জিন অন্য কোষে স্থাপন করে কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্খিত অংশ কেটে অন্য একটি ডিএনএ অণুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয় তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। আর রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে জিন ক্লোনিং বলে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার:

ইনসুলিন তৈরি: রক্তে অতিরিক্ত সুগার থাকলে ইনসুলিন প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে জীবের কোষ অন্য জীবে স্থানান্তর করে রিকম্বনিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব দেহের জন্য ইনসুলিন তৈরি করা হয়।

প্রাণি উন্নয়ন: গরুর দুধে আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য Protein C জিন স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও, মৎস্যের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

শস্য উন্নয়ন: শস্যে ব্যাকটেরিয়ার জিন প্রবেশ করার মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মাছ ও ওষুধে ব্যবহার)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

কোনো জীবের জিন বা DNA কেটে, জোড়া লাগিয়ে বা পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব বা পণ্য তৈরির প্রযুক্তিকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি) বলে।

সহজ উদাহরণ

বাংলাদেশে অনুমোদিত Bt বেগুন — একটি ব্যাকটেরিয়ার জিন বেগুনে ঢুকিয়ে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী করা হয়েছে। ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে মানব ইনসুলিনের জিন বসিয়ে ইনসুলিন তৈরিও একই প্রযুক্তি।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ধাপ (চিত্র)

  1. জিন শনাক্ত: কাঙ্ক্ষিত জিন (Bt জিন / ইনসুলিন জিন)
  2. কাটা: রেস্ট্রিকশন এনজাইম (জৈব কাঁচি)
  3. জোড়া: জিনকে প্লাজমিডে লাগানো (লাইগেজ এনজাইম = আঠা)
  4. প্রবেশ: ব্যাকটেরিয়া বা উদ্ভিদ কোষে ঢোকানো
  5. ফল: নতুন গুণ বা পণ্য তৈরি (বেগুন, ইনসুলিন)

ব্যবহার (সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্নের ক্ষেত্র)

ক্ষেত্র প্রয়োগ
কৃষি গবেষণা পোকা ও রোগ প্রতিরোধী, খরা বা লবণসহিষ্ণু ফসল (Bt বেগুন), উৎপাদন বৃদ্ধি
প্রাণিসম্পদ দ্রুত বর্ধনশীল ও বেশি দুধ বা মাংস দেওয়া প্রাণী; রোগ প্রতিরোধ; ক্লোনিং (ডলি ভেড়া, ১৯৯৬)
মাছ দ্রুত বড় হয় ও রোগ কম হয় এমন মাছের জাত
ওষুধ ইনসুলিন, গ্রোথ হরমোন, টিকা তৈরি

ঝুঁকি/সীমাবদ্ধতা: জীববৈচিত্র্যে প্রভাব, অ্যালার্জির আশঙ্কা, নৈতিক প্রশ্ন, বীজের জন্য বহুজাতিক কোম্পানির ওপর নির্ভরতা।

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: সংজ্ঞা ও ধাপ → কৃষিতে (Bt বেগুন, উৎপাদন বৃদ্ধি) → প্রাণিসম্পদে (জাত উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ) → ঝুঁকি → উপসংহার: নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রয়োগে খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ভূমিকা।

MCQ পয়েন্ট

DNA কাটার এনজাইম = রেস্ট্রিকশন এনজাইম • জোড়া লাগায় = লাইগেজ • ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনসুলিন উৎপাদন = জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং • ডলি ভেড়া = ক্লোনিং (১৯৯৬)

ন্যানো টেকনোলজি

ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১০-৯ মিটারকে ন্যানোমিটার বলে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকৃতির কোন কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করাকে ন্যানো টেকনোলজি বলে। ১ ন্যানোমিটার সমান ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগ। ন্যানোটেকনোলজি হল পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যা। ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তিকে সংক্ষেপে ন্যানোটেক বলা হয়।

ন্যানো টেকনোলজির ক্ষেত্র দুটি:-

১। টপ আপ (Top Down): টপডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়।

২। (Bottom Up): বটমআপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরি করা।

ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহারিক এর প্রয়োগ:

হার্ডওয়্যার তৈরি: মোবাইল এবং কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ডডিস্ক তৈরি করার জন্য ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে হার্ডডিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।

খাবারের গুনাগুন রক্ষা: ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে খবারের গুনাগুন অটুট রাখা যায়। বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্যাকেটিং এবং সঠিক স্বাদ রক্ষায় এ ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্র: এ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর কোষকে ক্ষতি না করে বাছাই করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিতে আক্রমণ করতে সক্ষম হয়।

ঔষধ তৈরি: অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ তৈরিতে ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

পন্য সামগ্রী: ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কাপড় তৈরি করা সম্ভব যা কুঁচকায় না, পাশাপাশি শক্তিশালী, হালকা এবং আরও টেকসই। মোটরসাইকেলের হেলমেট বা ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরি করতেও ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (বর্ণনা ও খাদ্য/চিকিৎসা/শিল্পে সুবিধা)

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা (জ্ঞানমূলক)

১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার (১ nm = ১০−৯ মিটার) আকারের পদার্থ নিয়ে কাজ করে নতুন গুণসম্পন্ন উপাদান, যন্ত্র বা পণ্য তৈরির প্রযুক্তিই ন্যানোটেকনোলজি। এ আকারে পদার্থের আচরণ বদলে যায় — যেমন আরও শক্ত, হালকা বা বেশি সক্রিয় হয়।

সহজ উদাহরণ

সানস্ক্রিনে ন্যানো জিঙ্ক অক্সাইড কণা; পানি-ও দাগ-প্রতিরোধী কাপড়; ক্যান্সার কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া ন্যানো-কণা।

ন্যানোমিটার স্কেলে বিভিন্ন বস্তুর আকার (চিত্র)

বস্তু আনুমানিক আকার
মানুষের চুলের ব্যাস ≈ ৮০,০০০ nm
লোহিত রক্তকণিকা ≈ ৭,০০০ nm
ব্যাকটেরিয়া ≈ ১,০০০ nm
ভাইরাস ≈ ১০০ nm
DNA-র প্রস্থ ≈ ২ nm
একটি পরমাণু ≈ ০.১ nm

১ ন্যানোমিটার (nm) = ১০−৯ মিটার = এক মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ। ন্যানো পরিসর = ১–১০০ nm।

ব্যবহার (বারবার আসা ক্ষেত্র)

ক্ষেত্র সুবিধা
খাদ্য ন্যানো প্যাকেজিংয়ে খাবার বেশিদিন তাজা থাকে; সেন্সর খাবার নষ্ট হওয়া ধরে ফেলে
চিকিৎসা লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ পৌঁছানো, দ্রুত ও সূক্ষ্ম রোগ নির্ণয়, সুস্থ কোষের ক্ষতি কম
শিল্প হালকা ও শক্ত উপাদান, ছোট ও দ্রুত ইলেকট্রনিক চিপ, ন্যানো-কোটিং

ঝুঁকি: ন্যানো কণার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব এখনও পুরো জানা নয়; উৎপাদন খরচ বেশি।

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো

সম্ভাব্য প্রশ্ন: খাদ্য, চিকিৎসা ও শিল্পে ন্যানোটেকনোলজির সুযোগ-সুবিধা উল্লেখপূর্বক মতামত দাও [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]

উত্তরের কাঠামো: সংজ্ঞা ও আকার (১–১০০ nm) → খাদ্য → চিকিৎসা → শিল্প (প্রতিটিতে ১–২টি উদাহরণ) → ঝুঁকি → তোমার মতামত: সতর্ক নিয়ন্ত্রণে সুফল বেশি।

MCQ পয়েন্ট

১ ন্যানোমিটার = ১০−৯ মিটার • ন্যানো পরিসর = ১–১০০ nm • ন্যানোটেকনোলজির ধারণা দেন রিচার্ড ফাইনম্যান (১৯৫৯)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা

‌‌নৈতিকতা হল মানবিক আদর্শাবলীর একটি প্রণালী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের সকলেরই কিছু নৈতিকতা থাকা উচিত। ‘কম্পিউটার এথিকস ইন্সটিটিউট’ ১৯৯২ সালে এই বিষয়ে দশটি নির্দেশনা তৈরি করে। নির্দেশনা গুলো র‌্যামন সি. বারকুইন কম্পিউটার এথিকস সম্পর্কে তাঁর গবেষণা পত্রে উপস্থাপন করেছিলেন।

এই নির্দেশনা দশটি হলো:-

১। কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।
২। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যের কাজের ব্যঘাত ঘটানো যাবে না।
৩। অন্য কম্পিউটারের ডেটার উপর নজরদারি করা যাবে না।
৪। কম্পিউটার ব্যবহার এর উদ্দেশ্য যেন কারো ডেটা চুরি না হয়।
৫। এটি ব্যবহার করে ভুয়া, বানোয়াট, বিদ্বেষপূর্ণ কোনো সংবাদ বা তথ্য ছড়ানো উচিত নয়। এটি আইনবিরোধী কার্যকলাপ।
৬। পেইড সফটওয়্যার ব্যবহার করা। কোনো ধরনের পাইরেসি বা কপি করা সফটওয়্যার ব্যবহার না করা।
৭। বিনা অনুমতিতে কারো রিসোর্স ব্যবহার না করা।
৮। কারোর রিসোর্স করা গবেষণা নিজের বলে চালিয়ে না দেওয়া।
৯। কম্পিউটার প্রোগামিং করতে চাইলে প্রথমে ভাবতে হবে সমাজের উপর এর প্রভাব কেমন হবে।
১০। কম্পিউটার ব্যবহার করে কারো সাথে যোগাযোগ করতে বা নিজের সহকর্মীদের সাথে সৌজন্যতা প্রকাশ করতে হবে। ‍

কতিপয় কিছু কম্পিউটার ক্রাইম

নৈতিকতার চরম ব্যত্যয় দেখা যায় তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপকারী দিক থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু অপকারী দিক রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনৈতিক ও বেআইনি কাজও সংগঠিত হয়ে থাকে। এই কাজগুলো নিষিদ্ধ এবং অনৈতিক কাজ বলে বিবেচিত:-


হ্যাকিং(Hacking): অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে কম্পিউটার ব্যবহার করা কিংবা কম্পিউটারকে তার নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে হ্যাকিং বলে। যারা হ্যাক করেন তাদের হ্যাকার বলা হয়।


ফিশিং(Phishing): প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করাকে ফিশিং বলে। এটা অনেকটা টোপ দিয়ে মাছ ধরার মত।


প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): অন্যের গবেষণা, সাহিত্য এবং আইডিয়া হুবহু নকল বা সামান্য পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকে প্লেজিয়ারিজম বলে।


স্প্যামিং(Spamming): অনাকাঙ্খিত কোনো বার্তা ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে কারো কাছে প্রেরণ করার নাম স্প্যামিং।


সফটওয়্যার পাইরেসি (Software Piracy): সফটওয়্যার পাইরেসি হচ্ছে প্রস্তুতকারীর অনুমতি ব্যতীত কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা, কপি করা কিংবা বিতরণ করা।


ভাইরাস (Virus) : ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের রিসোর্সসমূহকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। VIRUS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Vital Information Resources Under Seize

AHP সাজেশন: টপিক ম্যাপ ও সৃজনশীল প্রশ্নের কাঠামো

HSC ICT ২০২৭ — চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য সাজেশন (অধ্যায় ১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি — বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত)

এই সাজেশন কীভাবে তৈরি

২০১৬–২০২৫ সালের বোর্ড ও নামকরা কলেজের সৃজনশীল প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে কোন টপিক বারবার এসেছে। প্রতিটি টপিকে আছে সহজ সংজ্ঞা, বাস্তব উদাহরণ, চিত্র, সম্ভাব্য সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো এবং MCQ পয়েন্ট।

অধ্যায় ১-এর টপিক ম্যাপ

টপিক গুরুত্ব কোন ধরনের প্রশ্ন আসে
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ★★★ প্রায় প্রতি বছর কোনো না কোনো বোর্ডে; শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
ক্রায়োসার্জারি ★★★ পদ্ধতি বর্ণনা ও চিকিৎসায় যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ — বহু বোর্ডে এসেছে
বায়োমেট্রিক্স ★★★ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বনাম রেটিনা — কোনটি বেশি উপযোগী
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ★★★ কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মাছ ও ওষুধে ব্যবহার
ন্যানোটেকনোলজি ★★★ বর্ণনা ও খাদ্য/চিকিৎসা/শিল্পে সুবিধা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ★★☆ গাড়ি চালনা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে ভূমিকা
রোবটিক্স ★★☆ শিল্প-কারখানা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার
বায়োইনফরমেটিক্স ★★☆ ব্যাখ্যা ও প্রয়োগক্ষেত্র; জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে সম্পর্ক

মনে রাখো: এটি বোর্ডের প্রশ্নের ধরন দেখে করা সম্ভাবনার ভিত্তিতে সাজেশন, নিশ্চয়তা নয়। তাই ★★★ টপিক আগে পড়ো, তারপর বাকিগুলো; অধ্যায়ের বাকি অংশও একবার দেখে নিও।

সৃজনশীল প্রশ্নের কাঠামো মনে রাখো

অংশ ধরন নম্বর উত্তরে কী লিখবে
ক জ্ঞানমূলক ১ এক বাক্যে সংজ্ঞা বা নাম
খ অনুধাবন ২ কারণসহ ব্যাখ্যা (২–৩ বাক্য)
গ প্রয়োগ ৩ উদ্দীপকের সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা বা প্রক্রিয়া
ঘ উচ্চতর দক্ষতা ৪ তুলনা, বিশ্লেষণ ও নিজের যুক্তিসহ মতামত

AHP মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন (নিজে উত্তর লিখে অনুশীলন করো)

প্রশ্ন ১

উদ্দীপক: শহরের একটি মেডিকেল কলেজে হেডসেট ও গ্লাভস পরে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার-নির্মিত একটি কৃত্রিম অপারেশন থিয়েটারে রোগীর অস্ত্রোপচার অনুশীলন করে। অন্য দিকে, একই হাসপাতালে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত এক রোগীকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই অতি ঠান্ডা তরল ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ক. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী? (১)
খ. "গ্লাভস ও সেন্সর ভিআর-এর অপরিহার্য অংশ" — ব্যাখ্যা করো। (২)
গ. রোগীকে দেওয়া চিকিৎসা পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. উদ্দীপকের দুটি প্রযুক্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রে কতটা যৌক্তিক — বিশ্লেষণ করো। (৪)

উত্তরের ইঙ্গিত: ক → ভিআর-এর সংজ্ঞা। খ → গ্লাভস হাতের নড়াচড়া ও স্পর্শ কম্পিউটারে পাঠায়, সেন্সর অবস্থান ধরে, ফলে ব্যবহারকারী বাস্তবের মতো অনুভব করে। গ → ক্রায়োসার্জারি (৪ ধাপ)। ঘ → ভিআর: নিরাপদ প্রশিক্ষণ; ক্রায়োসার্জারি: কম রক্তক্ষরণ ও দ্রুত সুস্থতা; সীমাবদ্ধতা (ব্যয়) সহ সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন ২

উদ্দীপক: একটি গবেষণা সংস্থা ব্যাকটেরিয়ার একটি বিশেষ জিন কেটে ধানের কোষে জুড়ে দিয়ে এমন ধান তৈরি করেছে যা পোকার আক্রমণ সহ্য করতে পারে। সংস্থার সার্ভারে প্রবেশের জন্য কর্মীদের আঙুলের ছাপ নিতে হয়, আর গোপন ল্যাবে ঢুকতে চোখ স্ক্যান করতে হয়।

ক. বায়োমেট্রিক্স কী? (১)
খ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রেস্ট্রিকশন এনজাইমের কাজ বুঝিয়ে লেখো। (২)
গ. ধান তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. সার্ভার রুম ও গোপন ল্যাবের জন্য ব্যবহৃত দুই পদ্ধতির মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ — যুক্তিসহ মতামত দাও। (৪)

উত্তরের ইঙ্গিত: খ → জিন কাটার জৈব কাঁচি। গ → জিন শনাক্ত, কাটা, জোড়া, কোষে প্রবেশ, নতুন বৈশিষ্ট্য। ঘ → ফিঙ্গারপ্রিন্ট (সস্তা, দ্রুত) বনাম রেটিনা/আইরিস (বেশি নির্ভুল, জাল করা কঠিন); গোপন ল্যাবে রেটিনা বেশি নিরাপদ, তবে খরচ বেশি।

প্রশ্ন ৩

উদ্দীপক: একটি কোম্পানি খাবারের প্যাকেটে এমন অতি ক্ষুদ্র কণার আবরণ ব্যবহার করে যা খাবার বেশি দিন তাজা রাখে। একই কোম্পানির কারখানায় রোবট-হাত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঢালাই করে এবং AI ক্যামেরা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ আলাদা করে।

ক. ন্যানোমিটার কী? (১)
খ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। (২)
গ. প্যাকেটে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. কারখানার উৎপাদনে রোবট ও AI-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। (৪)

উত্তরের ইঙ্গিত: ক → ১ মিটারের ১০−৯ অংশ। গ → ন্যানোটেকনোলজি (আকার ১–১০০ nm, খাদ্য সংরক্ষণ)। ঘ → রোবট: নির্ভুল ঢালাই; AI: মান নিয়ন্ত্রণ; লাভ (গতি, মান) ও ক্ষতি (কর্মসংস্থান ঝুঁকি)।

AHP দ্রুত MCQ রিভিশন ও পরীক্ষার আগের দিনের চেকলিস্ট

দ্রুত MCQ রিভিশন (প্রশ্ন ও উত্তর) ★★★

# প্রশ্ন উত্তর
১ বিশ্বগ্রাম ধারণার প্রবক্তা কে? মার্শাল ম্যাকলুহান
২ ভিআর-এ মাথায় পরার ডিভাইসকে কী বলে? HMD
৩ "রোবট" শব্দটি কোন ভাষার শব্দ থেকে এসেছে? চেক
৪ "রোবটিক্স" শব্দটি কে ব্যবহার করেন? আইজাক অ্যাসিমভ
৫ AI শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন? জন ম্যাকার্থি
৬ ক্রায়োসার্জারিতে তরল নাইট্রোজেনের তাপমাত্রা প্রায় কত? −১৯৬°C
৭ ফিঙ্গারপ্রিন্ট কিসের নকশার উপর ভিত্তি করে? আঙুলের রিজ ও ভ্যালি
৮ রেটিনা স্ক্যানে কোন নকশা ব্যবহৃত হয়? চোখের রক্তনালির নকশা
৯ মানব জিনোম প্রকল্প সম্পন্ন হয় কত সালে? ২০০৩
১০ জিন কাটার কাজে কোন এনজাইম ব্যবহৃত হয়? রেস্ট্রিকশন এনজাইম
১১ Bt বেগুন কোন প্রযুক্তির ফল? জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
১২ ডলি ভেড়া কোন প্রযুক্তিতে সৃষ্টি, কত সালে? ক্লোনিং, ১৯৯৬
১৩ ১ ন্যানোমিটার কত মিটার? ১০−৯ মিটার
১৪ ন্যানো পদার্থের আকারের পরিসর কত? ১–১০০ nm
১৫ বায়োইনফরমেটিক্সে কোন ধরনের ডেটা নিয়ে কাজ হয়? বিভিন্ন জৈবিক ডেটা (DNA, প্রোটিন)
১৬ GenBank কী? জৈব (জিন) ডেটাবেজ
১৭ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল প্রযুক্তিগুলো কোনগুলো? AI, IoT, রোবটিক্স, বিগ ডেটা
১৮ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনসুলিন উৎপাদন কোন প্রযুক্তির প্রয়োগ? জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

পরীক্ষার আগের দিনের চেকলিস্ট

  • ★★★ ৫টি টপিকের সংজ্ঞা মুখস্থ: ভিআর, ক্রায়োসার্জারি, বায়োমেট্রিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোটেকনোলজি
  • প্রতিটির ২টি করে ব্যবহার/উদাহরণ মনে রাখো
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট বনাম রেটিনা তুলনার টেবিলটি একবার লিখে দেখো
  • সৃজনশীলে "ঘ" অংশে সবসময় যুক্তিসহ নিজের মতামত দিয়ে শেষ করো