অধ্যায়টি শুরু করার পূর্বে প্রথমেই বলে নিচ্ছি এখানে শুধু আমি প্রথম অধ্যায়ের টপিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা করেছি। এটি কোন বই নয়।
বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। কানাডিয়ান দার্শনিক হাবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান (Harvard Marshall McLuhan) বিশ্বগ্রাম ধারণাটি প্রবর্তন করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ‘The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic Man’ এবং ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত 'Understanding Media’ বই এ বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে ধারণা দেন। মার্শাল ম্যাকলুহান কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন।
বিশ্বগ্রামের সুবিধা
বিশ্বগ্রামের অসুবিধা
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদান সমূহ
বিশ্বগ্রাম সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো এখানো সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে:-
যোগাযোগ
যোগাযোগ বিশ্বগ্রামের একটি অপরিহার্য সংশ্লিষ্ট উপাদান। কোন মাধ্যম দ্বারা এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষে যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে কমিউনিকেশন বলে। এখানে বেশকিছু যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:-
মোবাইল ফোন
মোবাইল অর্থ ভ্রাম্যমান বা স্থানান্তরযোগ্য। এটি সহজে যেকোনও স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের জনক মার্টিন কুপার। শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক মোবাইল ফোন দিয়ে আরো অনেক সেবা গ্রহণ করা যায়। যেমন: টেক্সট মেসেজ, মাল্টিমিডিয়া মেসেজ, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ক্যামেরা, গেমিং ইত্যাদি। যেসব মোবাইল ফোন এসব সেবা এবং কম্পিউটারের সাধারণ কিছু সুবিধা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্টফোন নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রথম চালু হয় ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে।
ইন্টারনেট
ইন্টারনেট হল বিশ্বেজুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ইন্টারনেট এ আইপি অ্যাড্রেস এর মাধ্যমে ডেটা আদান প্রদান করা হয়। বিশ্বে ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট চালু হয়। ইন্টারনেটের জনক ভিনটন জি কার্ফ। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করে ইন্টারনেট।
২০০০ সালে বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১,৮৬,০০০ যা ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৬,১৭,৩০০, যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাত্র ০.৪%। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬২% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৯৩.৭০২ মিলিয়ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ 4G নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রদান শুরু করে।
স্যাটেলাইট
স্যাটেলাইট শব্দের অর্থ কৃত্রিম উপগ্রহ। পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে এমন বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ হচ্ছে স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইট পুরো পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে ৩৬,০০০ কিমি বা ২৩,০০০ মাইল দূরত্বে স্থাপন করা হয়। মোবাইলফোনের জিপিএস স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে কাজ করে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হল প্রথম বাংলাদেশী যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি থ্যালস অ্যালেনিয়া স্পেস দ্বারা নির্মিত এবং ১১ মে, ২০১৮ এ চালু হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্যাটেলাইটটির নামকরণ করা হয়েছে। একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট চালু করতে বাংলাদেশ ৫৭ তম দেশে পরিণত হয়েছে। উপগ্রহের মোট ব্যয় ছিল ২৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ বিদেশী উপগ্রহের উপর নির্ভরশীল ছিল। এতে প্রতিবছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ চালু করে বাংলাদেশ খরচ বাঁচাতে পারে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডোর মতো দুর্যোগের সময় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ আনতে সহায়তা করবে।
ই-মেইল
ইলেক্ট্রনিক মেইলকে সংক্ষেপে ইমেইল বলে। রে টমলি সন ইমেইলের জনক। ইমেইল এর মাধ্যমে টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিওসহ যেকোনো ধরনের ফাইল অতি দ্রুত পাঠানো যায়। একটি ইমেইলের ২টি অংশ থাকে। যেমন projuktilab@gmail.com হচ্ছে একটি ইমেইল অ্যাড্রেস। প্রথম অংশটি ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং দ্বিতীয় অংশটি ডোমেইন নেম। যেমন: projuktilab হচ্ছে ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং gmail.com হচ্ছে ডোমেইন নেম। কিছু জনপ্রিয় ইমেইল সেবাদানকারীর নাম: gmail.com, yahoo.com, hotmail.com
ইমেইল পাঠানোর জন্য একটি হার্ডওয়্যার (মোবাইল/কম্পিউটার), ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইমেইল অ্যাড্রেস প্রয়োজন হয়।
ইমেইলের সুবিধা:- দ্রুত গতিতে ডেটা আদান প্রদান করা যায়, একইসাথে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে বার্তা পাঠানো যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব উন্নতমানের।
জিপিএস (GPS)
জিপিএস (GPS) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Global Positioning System যার মাধ্যমে কোন স্থান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। জিপিএস পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় নিমেষেই আমাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে ও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার দিকনির্দেশনা দিতে পারে। জিপিএস কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ণয়ের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। এটি মানচিত্র তৈরি, পঠন ও ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এছাড়াও, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা, দূরত্ব প্রভৃতি নির্ণয় করা যায়।
রিজার্ভেশন সিস্টেম
ঘরে বসে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে যানবাহনের টিকেট সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে রিজার্ভেশন সিস্টেম বলে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজে ছক কেটে আসন বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে বরাদ্দ করার আসন ব্যবস্থা প্রচলিত পদ্ধতিতে থাকে না। রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে দূর-দরান্ত থেকে আসন বরাদ্দ করা সম্ভব।
টেলিকনফারেন্সিং
ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থান করে টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে টেলিকনফারেন্সিং। ১৯৭৫ সালে মরি টারফ টেলিকনফারেন্সিং পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। টেলিকনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার, সভা কিংবা দলবদ্ধভাবে যোগাযোগ করা যায়।
ভিডিও কনফারেন্সিং
ভিডিও কনফারেন্সিং হলো একটি অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে মনিটর বা পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী অবস্থান থেকে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে ডাক্তার-রোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ-জনগন, পরিবারের সদস্যগণ একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারেন। ভিডিও কনফারেন্সিং এর কিছু জনপ্রিয় সফটওয়্যারের নাম: Skype, Whatsapp, IMO, Messenger ইত্যাদি।
কর্মসংস্থান
ইন্টারনেট ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের সুযোগকে আউটসোর্সিং বলা হয়। আউটসোর্সিং এর কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের নাম: ওডেস্ক (বর্তমান: আপওয়ার্ক), ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি। যারা এসব মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন তাদের ফ্রিল্যান্সার বলে। অপরদিকে, যারা মার্কেটপ্লেস এ কাজ দেয় তাদের বায়ার বলে। ফ্রিল্যান্সাররা নির্দিষ্ট শ্রম ঘন্টায় কাজ করে থাকে।
উদাহরণ: আরিফের একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। সে জানে না কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় কিংবা সে নিজের কাজ নিজে করতে আগ্রহী নয়। তাই, সে চিন্তা করলো কাউকে দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করানোর। তারপর, সে একটি স্থানে ঘোষনা দিল যে, তার একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। রাকিব নামের একজন ব্যক্তি তার ওয়েবসাইটটি করে দিল। আরিফ ওয়েবসাইটটি বুঝে পাওয়ার পর রাকিবকে টাকা পরিশোধ করে দিল।
উপরের উদাহরণে, আরিফ আউটসোর্সিং করেছেন এবং রাকিব ফ্রিল্যান্সিং করেছেন আর যে স্থানে ওয়েবসাইট তৈরি করার ঘোষনা দিল সেটা হল মার্কেটপ্লেস।
ফ্রিল্যান্সিং এ সময় ও স্থানের বাঁধাধরা নিয়ম না থাকায় প্রত্যেকেই তার দক্ষতা অনযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং পেশার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অবশ্যই কোন একটি নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে, তরুন-তরুণীদের দক্ষতা অর্জন ছাড়াই ফ্রিল্যান্সিং করার চেষ্টা করছে যার ফলে একদিকে যেমন মার্কেটপ্লেসগুলোর ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজের ক্ষেত্রসমূহ: ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার প্রচুর সেক্টর রয়েছে। কয়েকটি জনপ্রিয় সেক্টর: ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং ইত্যাদি।
শিক্ষা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পাঠদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিদেশে গিয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কারণ, বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশির ভাগই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধ্য থাকে না। কারণ সেসব দেশে থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। দূরশিক্ষণ বা ডিসটেন্স লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজ দেশে বসেই পড়ালেখা করতে পারে। ডিসটেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ঘরে বসেই স্বনামধন্য শিক্ষকদের পাঠদান গ্রহণ করা যায়। সারা বিশ্বের স্নাতকদের এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো ভাবে দূরশিক্ষণের সাথে জড়িত।
10minuteschool.com, shikkhok.org, khanacademy.org ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই স্বনামধন্য শিক্ষকদের ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে। এখন, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সার্টিফিকেটও দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে এখন ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ গ্রহণ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, রোগীর সাথে ভিডিও শেয়ারিং এর মাধ্যমে আলোচনা করে ডাক্তার রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থান করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়াকে টেলিমিডিসিন বলে।
গবেষণা
বর্তমানে ঘরে বসেই গবেষনা করা সম্ভব। মানুষ এখন সাহিত্য, শিল্প বা সমাজবিজ্ঞান অথবা গণিত, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন, তারা কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া সেই গবেষণার কথা চিন্তাই করতে পারে না। গুগল(Google), উইকিপিডিয়া(Wikipedia) ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই যেকোনো বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।
অফিস
তথ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন কাজ অনেক সহজেই সম্পন্ন করা যায়। অফিস অটোমেশন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম যেমন: ডকুমেন্ট তৈরি করা, সংরক্ষণ, হিসাব ইত্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় অফিসের স্বচ্ছতা, কাজের দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়ে।
বাসস্থান
সাধারণভাবে, আমরা যেখানে বাস করি সেটাই বাসস্থান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট হোম। স্মার্ট হোম স্মার্ট হোম হচ্ছে এমন একটি বাসস্থান য়েখানে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বাড়ির প্রয়োজনীয় সিস্টেম(যেমন: ফ্যান, লাইট, সিকিউরিটি ইত্যাদি) কে নিয়ন্ত্রন করা যায়। স্মার্ট হোম তখনই হয়ে উঠবে যখন দালানে স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। যেগুলো ধোঁয়া, আগুন শনাক্ত করতে পারবে, নির্দিষ্ট জায়গা বা মানুষের কাছে তথ্য পাঠাতে পারবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগুন নেভাতেও পারবে।
ব্যবসা-বাণিজ্য
ব্যবসা বানিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষ্ময়কর ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত, মানুষ কোন পন্য কেনার জন্য বাজারে যেতে হয়। ই-কমার্স বাজারে গিয়ে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের ধারণাটি বদলে দিয়েছে। ই-কমার্স এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স কমার্স যার মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যায়। পন্য ক্রয়ের পর একজন ব্যক্তি অনলাইনেই মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। অনলাইনে মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়াকে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম বলা হয়। যেমন: পেপাল, পায়োনিয়ার, স্ক্রিল, নেটেলার ইত্যাদি পেমেন্ট মেথডের মাধ্যমে ঘরে বসেই মূল্য পরিশোধ করা যায়। বাংলাদেশে ঘরে বসে মূল্য পরিশোধের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। জনপ্রিয় কিছু মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মধ্যে রয়েছে: বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি। ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অর্থ পাঠানো। ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ATM যার পূর্ণরূপ Automatic Teller Machine.
পন্য লেনদেনের ধরণ অনুযায়ী ই-কমার্স চার প্রকার:-
ই-কমার্সের সুবিধা
১। ঘরে বসেই পন্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।ই-কমার্সের অসুবিধা
১। অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সমস্যা হয়ে থাকে।সংবাদ
খবর জানার জানার এখন পত্রিকা কেনার তেমন কোন প্রয়োজন হয় না। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে খবর পাওয়া যায়। অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া খবরগুলো প্রকাশিত হয়। তবে, নিউজ পোর্টাল বাছাই করার সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল মিথ্যা খবর প্রকাশ করে থাকে। কয়েকটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল হচ্ছে: prothomalo.com, jugantor.com, bd-pratidin.com ইত্যাদি।
বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ
তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে এখন মানুষ বহুমুখী বিনোদন উপভোগ করতে পারছে। যেমন: ইউটিউব এর মাধ্যমে যেকোন ধরনের ভিডিও দেখা, স্মার্টফোনগুলোর মাধ্যমে গেইম খেলা ইত্যাদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমান যুগের খুব জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশ্বের সকল মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এসব যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেইসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় যেটি মার্ক জুকারবার্গ ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
সাংস্কৃতিক বিনিময়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, বিনোদন মাধ্যম ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানুষের একে অপরের সাথে সাংস্কৃতিক বিনিময় করতে সক্ষম। ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে কোনো ব্যাক্তি তার নিজস্ব লেখা প্রকাশ করতে পারে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুফলের পাশাপাশি বেশকিছু কুফল রয়েছে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম – ব্যাখা কর। [রা. বো-১৯]
বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য বেশকিছু উপাদান প্রয়োজন এবং প্রতিটি উপাদান তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। তাই বলা যায়, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোর নিয়ে এসেছে – ব্যাখা কর। [দি. বো-১৯]
বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এ যুগের চালিকাশক্তি যা পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে।
"সংবাদে আজ যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে যুক্ত হতে পারে" - ব্যাখা কর। [মাদ্রাসা বোর্ড - ২০১৯]
ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে আজ যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে সংবাদে যুক্ত হতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিং হলো একটি অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে মনিটর বা পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী অবস্থান থেকে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম – ব্যাখা কর। [রা. বো-১৯]
বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারবে। ফলে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করতে পারবে। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য বেশকিছু উপাদান প্রয়োজন এবং প্রতিটি উপাদান তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। তাই বলা যায়, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম।
“বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ডই কানেক্টিভিটি" - বিশ্লেষণ কর। [দি.বো-১৯]
বিশ্বগ্রামের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কানেক্টিভিটি হচ্ছে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড। কানেক্টিভিটি বলতে ইন্টারনেট সংযোগকে বুঝানো হয়। এ উপাদানের মাধ্যমেই ডেটা স্থানান্তর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কি বুঝ? [ঢা. বো-১৬]
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমান যুগের খুব জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশ্বের সকল মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম।
ই-কমার্স ব্যবসা বানিজ্যকে সহজ করে দিয়েছে-ব্যাখা [মা.বো-১৮]
ই-কমার্স বাজারে গিয়ে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের ধারণাটি বদলে দিয়েছে। ই-কমার্স এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স কমার্স যার মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যায়। ফলে, যাতায়াত খরচের প্রয়োজন হয় না। পন্য ক্রয়ের পর একজন ব্যক্তি অনলাইনেই মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।
প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয়, কিন্তু বাস্তব চেতনা উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। এটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিম্যুলেশন তত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরি হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাল্পনিক যেকোনো দৃশ্য দেখা ও শোনা যায়। কতগুলো যন্ত্রের সমন্বয়ে কাল্পনিক ঘটনাগুলো বাস্তবের ন্যায় রূপ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে, বডি স্যুট, ডেটা গ্লোভস, চশমা ইত্যাদি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি খুব বেশী সহজলভ্য না হলেও প্রাত্যহিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বাস্তবে অবস্থান করেও কল্পনাকে ছুঁয়ে দেখা সম্ভব। এখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কিছু প্রয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হল:-
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অসুবিধা
মানুষের চিন্তা ভাবনাকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রে রূপ দেওয়ায় হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: রোবটিক্স, মেশিন লার্নিং, টেক্সট টু স্পিচ, স্পিচ টু টেক্সট, ভিশন ইত্যাদি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১। আর্টিফিসিয়াল ন্যানো ইন্টেলিজেন্স
২। আর্টিফিসিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স
৩। আর্টিফিসিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজঃ PROLOG, C, C++, Java ইত্যাদি।
রোবটিক্স হচ্ছে প্রযুক্তির এমন একটি শাখা যেখানে রোবটের নকশা ডিজাইন, গঠন, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। Robot শব্দটি স্লাভিক্স শব্দ Robota থেকে এসেছে যার অর্থ শ্রমিক। রোবট একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র যা কাজের প্রয়োজনে রোবটকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণ পর্যন্ত ঘোরানো যায়। রোবটের মাধ্যমে বিপদজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। যেমন: ভারি যন্ত্রাংশ উঠানামা, যন্ত্রাংশ সংযোজন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, মহাকাশ গবেষণা, চিকিৎসা ও সামরিকক্ষেত্র ইত্যাদি।
রোবোটের বিভিন্ন অংশের নাম: পাওয়ার সিস্টেম, মুভেবল বডি:, সার্কিট, অ্যাকচুয়েটর, প্রোগ্রাম্যাবল ব্রেইন, সেন্সর ইত্যাদি। অ্যাকচুয়েটর হচ্ছে এমন একটি মোটর যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরানো যায়।
ক্রায়ো (Cryo) একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ হচ্ছে "বরফের মত ঠাণ্ডা" বা "খুবই ঠাণ্ডা" এবং সার্জারি (Surgery) শব্দের অর্থ হচ্ছে "হাতের কাজ"। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরের অস্বাভাবিক টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে ক্রায়োসার্জারি।
নিম্ন তাপমাত্রায় রোগ আক্রান্ত টিস্যুতে নাইট্রোজেন / আর্গন গ্যাস স্প্রে করার জন্য 'ক্রায়োগান' যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরে সার্জারির জন্য 'ক্রায়োপ্রোব' যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে তাপমাত্রা -৪১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রা হওয়ায় ঔ স্থানের অক্সিজেন ও রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে রোগাক্রান্ত কোষগুলো ক্ষতিসাধন হয়। এটি ন্যূনতম ধকল সহি্ষ্ণু শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব। ত্বকের ক্যান্সার, ত্বকের টিউমার, যকৃত ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতির জটিল কোন পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
মানুষের শরীরবৃত্তীয় বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মাপা এবং বিশ্লেষণ করার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে সকল সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
বায়োমেট্রিক্সের সুবিধা: উচ্চ নিরাপত্তায় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, সহজেই কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়।
মানুষের বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স ২ ধরনের হতে পারে:-
১। শরীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
ফিঙ্গারপ্রিন্ট: মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সম্পূর্ণ ইউনিক এবং এটি আজীবন ইউনিক থাকে বলে সহজেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ চাইলেও ডুপ্লিকেট বা নকল করতে পারে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। বায়োমেট্রিক্সের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকর পদ্ধতি।
আইরিস: আইরিস হচ্ছে চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয়। আইরিস বিশ্লেষণের মাধ্যমে কম সময়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়।
মুখমন্ডলের অববয়: মানুষের মুখের গঠন ও আকৃতির মাধ্যমে কোন একটি ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্তকরা সম্ভব।
হ্যান্ড জিওমিট্রি: মানুষের হাতের গঠন, সাইজ ও আকৃতির মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে হ্যান্ড জিওমিট্রি।
ডিএনএ পর্যবেক্ষণ: ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারিক পদ্ধতির নাম ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং। ডিএনএ টেস্ট করার জন্য জৈবিক নমুনা (যেমন: ব্যক্তির রক্ত, দাঁত, লালা, চুল ইত্যাদি) প্রয়োজন হয়।
২। আচরণগত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
কন্ঠস্বর: মাইক্রোফোনের সাহায্যে কন্ঠস্বর গ্রহণ করে পূর্বধারণকৃত কন্ঠস্বরের সাথে মিলিয়ে কোন ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।
স্বাক্ষর: স্বক্ষরের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে লেখার সময় চাপ, লেখার গতি, ধরণ মিলিয়ে দেখা হয়।
টাইপিং গতি: এ পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে তার গোপন কোড টাইপ করানো হয়। টাইপ করার সময় টাইপিং স্পিড পূর্ব ধারণকৃত স্পিডের সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।
বায়োইনফরম্যাটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যা সমূহ সমাধান করা হয়। এটি জৈবিক তথ্য পরিচালনায় কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগ যেখানে জৈবিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করার জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, জীব সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার কাজে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকে বায়োইনফরমেট্রিক্স বলে। বায়োইনফরম্যাটিক্সে ব্যবহৃত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড, নিউক্লিক এসিড এবং বায়োইনফরমেট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞানসমূহ হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার। তবে, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি।
বায়োইনফরমেট্রিক্স এর প্রয়োগ: জিন থেরাপি, ওষুধ তৈরি, মলিকিউলার মেডিসিন, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া।
বংশগতিবস্তুর মাধ্যমে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বংশগতিবস্তুগুলো হল ক্রোমোসোম, জিন, ডিএনএ এবং আরএনএ। বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। মানবদেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। আর ডিএনএ(DNA-Deoxyribonucleic Acid) ক্রোমোসোম এর প্রধান উপাদান। জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম হচ্ছে জিন। জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি জিন থাকে। আবার একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এক কোষ থেকে সুনির্দিষ্ট জীন অন্য কোষে স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কাঙ্খিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য জীবের ডিএনএ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল বলে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট জিন অন্য কোষে স্থাপন করে কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্খিত অংশ কেটে অন্য একটি ডিএনএ অণুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয় তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। আর রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে জিন ক্লোনিং বলে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার:
ইনসুলিন তৈরি: রক্তে অতিরিক্ত সুগার থাকলে ইনসুলিন প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে জীবের কোষ অন্য জীবে স্থানান্তর করে রিকম্বনিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব দেহের জন্য ইনসুলিন তৈরি করা হয়।
প্রাণি উন্নয়ন: গরুর দুধে আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য Protein C জিন স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও, মৎস্যের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।
শস্য উন্নয়ন: শস্যে ব্যাকটেরিয়ার জিন প্রবেশ করার মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১০-৯ মিটারকে ন্যানোমিটার বলে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকৃতির কোন কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করাকে ন্যানো টেকনোলজি বলে। ১ ন্যানোমিটার সমান ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগ। ন্যানোটেকনোলজি হল পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যা। ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তিকে সংক্ষেপে ন্যানোটেক বলা হয়।
ন্যানো টেকনোলজির ক্ষেত্র দুটি:-
১। টপ আপ (Top Down): টপডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়।
২। (Bottom Up): বটমআপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরি করা।
ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহারিক এর প্রয়োগ:
হার্ডওয়্যার তৈরি: মোবাইল এবং কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ডডিস্ক তৈরি করার জন্য ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে হার্ডডিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
খাবারের গুনাগুন রক্ষা: ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে খবারের গুনাগুন অটুট রাখা যায়। বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্যাকেটিং এবং সঠিক স্বাদ রক্ষায় এ ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্র: এ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর কোষকে ক্ষতি না করে বাছাই করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিতে আক্রমণ করতে সক্ষম হয়।
ঔষধ তৈরি: অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ তৈরিতে ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
পন্য সামগ্রী: ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কাপড় তৈরি করা সম্ভব যা কুঁচকায় না, পাশাপাশি শক্তিশালী, হালকা এবং আরও টেকসই। মোটরসাইকেলের হেলমেট বা ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরি করতেও ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
নৈতিকতা হল মানবিক আদর্শাবলীর একটি প্রণালী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের সকলেরই কিছু নৈতিকতা থাকা উচিত। ‘কম্পিউটার এথিকস ইন্সটিটিউট’ ১৯৯২ সালে এই বিষয়ে দশটি নির্দেশনা তৈরি করে। নির্দেশনা গুলো র্যামন সি. বারকুইন কম্পিউটার এথিকস সম্পর্কে তাঁর গবেষণা পত্রে উপস্থাপন করেছিলেন।
এই নির্দেশনা দশটি হলো:-
১। কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।কতিপয় কিছু কম্পিউটার ক্রাইম
নৈতিকতার চরম ব্যত্যয় দেখা যায় তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপকারী দিক থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু অপকারী দিক রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনৈতিক ও বেআইনি কাজও সংগঠিত হয়ে থাকে। এই কাজগুলো নিষিদ্ধ এবং অনৈতিক কাজ বলে বিবেচিত:-
হ্যাকিং(Hacking): অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে কম্পিউটার ব্যবহার করা কিংবা কম্পিউটারকে তার নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে হ্যাকিং বলে। যারা হ্যাক করেন তাদের হ্যাকার বলা হয়।
ফিশিং(Phishing): প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করাকে ফিশিং বলে। এটা অনেকটা টোপ দিয়ে মাছ ধরার মত।
প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): অন্যের গবেষণা, সাহিত্য এবং আইডিয়া হুবহু নকল বা সামান্য পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকে প্লেজিয়ারিজম বলে।
স্প্যামিং(Spamming): অনাকাঙ্খিত কোনো বার্তা ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে কারো কাছে প্রেরণ করার নাম স্প্যামিং।
সফটওয়্যার পাইরেসি (Software Piracy): সফটওয়্যার পাইরেসি হচ্ছে প্রস্তুতকারীর অনুমতি ব্যতীত কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা, কপি করা কিংবা বিতরণ করা।
ভাইরাস (Virus) : ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের রিসোর্সসমূহকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। VIRUS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Vital Information Resources Under Seize
