ডেটা কমিউনিকেশন এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং অধ্যায়টি অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
কমিউনিকেশন (Communication) শব্দের অর্থ যোগাযোগ। Communication শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Communicare শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে যার মানে 'to share' (আদান-প্রদান)। কমিউনিকেশনে কমপক্ষে দুটি পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
ডেটাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অথবা কোন ডিভাইস থেকে অন্য কোন ডিভাইসে কোন মাধ্যম দ্বারা আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে। ডাটা কমিউনিকেশনের উপদানগুলো হচ্ছে:-
এখানে ডেটা কমিউনিকেশনের মডেল দেখানো হল:-
ট্রান্সমিটার বা প্রেরক ডেটাকে সোর্স থেকে প্রাপ্ত ম্যাসেজকে সিগন্যালে রূপান্তর করে মাধ্যমে পাঠায়। যার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান হয় সেটিই মাধ্যম। মাধ্যম তারযুক্ত এবং তারবিহীন হতে পারে। রিসিভার বা গ্রাহক মাধ্যম থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে সেটা ম্যাসেজে রূপান্তর করে ডেস্টিনেশনে পাঠায়।
ব্যান্ডউইথ
ডেটা স্থানান্তরের হারকে ব্যান্ডউইথ বলে। অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমান ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় তাকে ব্যান্ডউইথ বলে। ব্যান্ডউইথ পরিমাপের একক হচ্ছে bps (bit per second)
একটি চ্যানেল ৫ সে. ৯৬০০ বিট ট্রান্সমিট করতে পারলে তার ব্যান্ডউইডথ (৯৬০০ / ৫ ) = ১৮০০bps.
ডেটা ট্রান্সমিশনের গতিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:-
১। ন্যারোব্যান্ড: ন্যারোব্যান্ডের গতি ৪৫ থেকে ৩০০bps হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত ধীরগতির ডেটা ট্রান্সমিশন। ন্যারোব্যান্ডকে সাবভয়েস ব্যান্ড ও বলা হয়। ওয়াকিটকি ও টেলিগ্রাফে ন্যারোব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
২। ভয়েসব্যান্ড: ভয়েসব্যান্ডের গতি ৯৬০০bps হয়ে থাকে। ভয়েসব্যান্ড ভয়েস ফ্রিকুয়েন্সি নামেও পরিচিত। একসময়, ইন্টারনেটের ডায়ালআপ মডেমে ভয়েসব্যান্ড ব্যবহৃত হতো। টেলিফোন, কিবোর্ড, প্রিন্টার, কার্ডরিডার ইত্যাদি ডিভাইসে ভয়েসব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
৩। ব্রডব্যান্ড: ব্রডব্যান্ডের গতি 1MBPS থেকে 1GBPS হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত উচ্চগতি সম্পন্ন ডেটা ট্রান্সমিশন। ওয়াইফাই, ওয়াইম্যাক্স এ ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
ডেটা স্থানান্তরের পদ্ধতিকে ডেটা ট্রানমিশন মেথড বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড ২ ধরনের:
প্যারালাল ট্রান্সমিশন
যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরালভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে।
প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশনে অনেক দ্রুতগতিতে ডেটা স্থানান্তরিত হয়। কারণ, একসাথে অসংখ্য লাইনে ডেটা পাঠানো যায়। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে সবগুলো বিট একই সময়ে একই সাথে স্থানান্তরিত হয়। অনেক দূরে ডেটা প্রেরণ করা সম্ভব নয়, ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ৮টি লাইন প্রয়োজন যা ব্যয়বহুল। যেমন: প্রিন্টার, ভিডিও স্ট্রিমিং।
সিরিয়াল ট্রান্সমিশন
যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন বলে।
এ পদ্ধতিতে বিটগুলো একটির পর একটি স্থানান্তরিত হয়। মাত্র একটি করে বিট স্থানান্তরিত হয় বলে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন সাশ্রয়ী। এছাড়াও, এ পদ্ধতিতে অনেক দূরে ডেটা প্রেরণ করা সম্ভব। তবে, এ পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন ধীরগতিসম্পন্ন, একই সময়ে মাত্র একটি বিট স্থানান্তর করা যায়। উদাহরণ: ইউএসবি (Universal Serial Bus)
প্যারালাল এবং সিরিয়াল ট্রান্সমিশনের মধ্যে পার্থক্য:
| প্যারালাল | সিরিয়াল |
|---|---|
| যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরাল ভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। | যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন বলে। |
| স্বল্প দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরিত করা যায় | অধিক দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরিত করা যায় |
| ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ৮টি লাইন প্রয়োজন | ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ১টি লাইন প্রয়োজন |
| প্যারালাল ট্রান্সমিশন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল | সিরিয়াল ট্রান্সমিশন তুলনামূলকভাবে খরচ কম |
সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশনে সিগন্যাল পাঠানোর সময় বিভিন্ন বিটের সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিকে বিট সিনক্রোনাইজেশন বলা হয়।
বিট সিনক্রোনাইজেশনের উপর ভিত্তি করে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন ৩ ধরনের:-
০১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
যে পদ্ধতিতে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হয় তাকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক যেকোনো সময় ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে এবং প্রাপক তা গ্রহণ করতে পারে। দুই বা ততোধিক ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার জন্য মাঝখানে বিরতি প্রয়োজন হয়। এ বিরতি সমান কিংবা ভিন্ন হতে পারে। প্রতিটি ক্যারেক্টারের শুরুতে একটি স্টার্ট বিট এবং শেষে দুটি স্টপ বিট থাকে। ফলে ১ ক্যারেক্টার বা ৮বিট ডেটা স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য ১১ বিটের ডেটায় রূপান্তর হয়ে ট্রান্সমিট হয়।
কিবোর্ড, মাউস, কার্ড রিডার, প্রিন্টার ইত্যাদি ডিভাইসে ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য অ্যাসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবহৃত হয়।
সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
যে পদ্ধতিতে প্রথমে ডেটাকে প্রেরক স্টেশনের প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং ডেটার ক্যারেক্টারসমূহ ব্লক আকারে ভাগ করে ডেটা ট্রান্সমিট করা হয় তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। প্রতিটি ব্লকে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১৩২টি ক্যারেক্টার থাকে। এ পদ্ধতিতে স্টার্ট বা স্টপ বিট প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতিতে ডেটা খুব দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিট হয়। ফলে ডেটা ট্রান্সমিশনে সময় কম লাগে। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতির গতি তুলনামূলকভাবে বেশী। সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রতিটি ব্লক ডেটার শুরুতে একটি হেডার ইনফরমেশন এবং শেষে একটি টেলার ইনফরমেশন যুক্ত করতে হয়।
অ্যাসিনক্রোনাস এবং সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের মধ্যে পার্থক্য:
| অ্যাসিনক্রোনাস | সিনক্রোনাস |
|---|---|
| অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ক্যারেক্টার আকারে ট্রান্সমিট হয়। | সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ক্যারেক্টার আকারে ট্রান্সমিট হয়। |
| প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস প্রয়োজন হয় না। | প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস প্রয়োজন হয়। |
| শুরুতে Start এবং Stop বিটের প্রয়োজন হয়। | শুরুতে Start এবং Stop বিটের প্রয়োজন হয় না। |
| এ ট্রান্সমিশনের গতি ও দক্ষতা কম | এ ট্রান্সমিশনের গতি ও দক্ষতা বেশী |
আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন
অ্যানসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস পদ্ধতির মিশ্র পদ্ধতি-ই হচ্ছে আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন। এ পদ্ধতিতে একাধিক ব্লকের মধ্যে বিরতি প্রায় শুন্য। তাই, এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন ডিলে সর্বনিম্ন হয়। মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন, অডিও এবং ভিডিও কলের ক্ষেত্রে আইসোক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবহৃত হয়।
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★☆☆ (সিনক্রোনাস/অ্যাসিনক্রোনাস, সিরিয়াল/প্যারালাল — বেশিরভাগ MCQ-তে)
সিরিয়াল ও প্যারালাল ট্রান্সমিশন (সংক্ষেপে)
সিরিয়াল: একটি তারে একটি একটি করে বিট যায়, দূরের যোগাযোগে ব্যবহৃত (যেমন USB, ইন্টারনেট)। প্যারালাল: একাধিক বিট একসাথে একাধিক তারে যায়, দ্রুত কিন্তু কম দূরত্বে ভালো (যেমন কম্পিউটারের ভেতরের বাস, পুরোনো প্রিন্টার পোর্ট)।
অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
S = স্টার্ট বিট, P = স্টপ বিট, SYN = সিনক্রোনাইজেশন সংকেত। অ্যাসিনক্রোনাসে অক্ষর ধরে ধরে (মাঝে বিরতি), সিনক্রোনাসে ব্লক ধরে (বিরতি ছাড়া) ডেটা যায়।
| বিষয় | অ্যাসিনক্রোনাস | সিনক্রোনাস |
|---|---|---|
| ডেটা পাঠানোর একক | একটি অক্ষর (ক্যারেক্টার) | বড় ডেটা ব্লক |
| স্টার্ট/স্টপ বিট | প্রতিটি অক্ষরে লাগে | লাগে না, SYN সংকেত থাকে |
| ঘড়ি (ক্লক) | প্রেরক-গ্রাহকের ঘড়ি আলাদা | ঘড়ি সমন্বিত থাকে |
| গতি ও খরচ | ধীর, সস্তা, ছোট ডেটার জন্য | দ্রুত, বেশি ব্যয়, বড় ডেটার জন্য |
| উদাহরণ | কীবোর্ড থেকে ইনপুট | কম্পিউটার-টু-কম্পিউটার বড় ফাইল পাঠানো |
ব্যান্ডউইডথ কী
নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত ১ সেকেন্ডে) একটি মাধ্যম দিয়ে যত পরিমাণ ডেটা পাঠানো যায় তাই ব্যান্ডউইডথ । একক: bps (বিট প্রতি সেকেন্ড), Kbps, Mbps, Gbps। ব্যান্ডউইডথ বেশি হলে ডেটা দ্রুত যায়।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের মধ্যে কোনটির দক্ষতা বেশি — বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: সংজ্ঞা ও চিত্র → স্টার্ট/স্টপ বিটের বাড়তি ঝামেলায় অ্যাসিনক্রোনাস ধীর → সিনক্রোনাসে ব্লক আকারে ডেটা যায় বলে গতি ও দক্ষতা বেশি → ছোট ডেটায় অ্যাসিনক্রোনাসই সহজ → সিদ্ধান্ত: বড় ডেটার ক্ষেত্রে সিনক্রোনাস বেশি দক্ষ।
MCQ পয়েন্ট
ব্যান্ডউইডথের একক = bps • অ্যাসিনক্রোনাসে প্রতি অক্ষরে স্টার্ট ও স্টপ বিট • সিরিয়াল ট্রান্সমিশন দূরের জন্য উপযোগী
উৎস থেকে গন্তব্যে ডেটা স্থানান্তরের প্রবাহের দিককে ডেটা ট্রানমিশন মোড বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ৩ ধরনের:- সিমপ্লেক্স, হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স।
সিমপ্লেক্স মোড
যে পদ্ধতিতে ডেটা শুধুমাত্র একদিকে প্রেরণ করা যায় তাকে সিমপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে, যোগাযোগটি একমুখী হয়, অর্থাৎ এক দিকে ডেটা প্রবাহিত হয়। একটি ডিভাইস কেবলমাত্র ডেটা প্রেরণ করতে পারে তবে তা গ্রহণ করতে পারে না অথবা এটি ডেটা গ্রহণ করতে পারে তবে ডেটা প্রেরণ করতে পারে না। যেমন: রেডিও, টেলিভিশন, মাউস, কিবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো ইত্যাদি।
হাফ ডুপ্লেক্স মোড
যে পদ্ধতিতে উভয়দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় তবে এক সাথে নয় তাকে হাফ ডুপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা উভয় দিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু একসাথে নয়। কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকে একই সময়ে একদিকে ব্যবহার করা হয়। হাফডুপ্লেক্স মোডে উভয় ডিভাইসই ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে এবং ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকেও ব্যবহার করতে পারে। তবে, হাফডুপ্লেক্স মোডে যখন একটি ডিভাইস ডেটা প্রেরণ করে, তখন অন্যটিকে অপেক্ষা করতে হবে, এতে সঠিক সময়ে ডেটা প্রেরণে বিলম্বের কারণ ঘটায়। যেমন: ওয়াকিটকি।
ফুল ডুপ্লেক্স
যে পদ্ধতিতে একইসাথে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় ফুল ডুপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা একই সময়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়। উভয় স্টেশন একই সাথে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে। ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুটি সিমপ্লেক্স চ্যানেল থাকে। যার একটি চ্যানেলের ট্র্যাফিক একদিকে প্রবাহিত হয় এবং অন্য চ্যানেলে ট্র্যাফিক বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন: মোবাইল।
ডেটা গ্রহণ ও প্রাপকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ৩ ধরনের:- ইউনিকাস্ট, ব্রডকাস্ট এবং মাল্টিকাস্ট।
ইউনিকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে শুধুমাত্র একটি গ্রাহকই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাকে ইউনিকাস্ট বলে।
এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে কোন ডেটা প্রেরণ করা হলে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ একটি প্রেরকই তা গ্রহণ করতে পারে। তাই, এটি One to One মোড নামেও পরিচিত। ইউনিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশনে সিমপ্লেক্স, হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স হতে পারে। যেমন: মোবাইল, টেলিফোন, এসএমএস ইত্যাদি।
ব্রডকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে নেটওয়ার্কে আওতাধীন সকলেই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাকে ব্রডকাস্ট বলে।
এ ট্রান্সমিশন মোডে প্রেরিত ডেটা নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সকল প্রাপক ডেটা গ্রহণ করতে পারে। যেমন: রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠান সকলেই উপভোগ করতে পারে। এটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি One to All নামেও পরিচিত। ব্রডকাস্ট ট্রান্সমিশনে শুধুমাত্র সিমপ্লেক্স ডেটা ট্রান্সমিশন হতে পারে।
মাল্টিকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে ডেটা শুধুমাত্র অনুমোদিত সদস্যগণ গ্রহণ করতে পারে তাকে মাল্টিকাস্ট বলে।
মাল্টিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে একটি ডিভাইস থেকে তথ্য প্রেরণ করলে ঐ নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সবাই তথ্য পায় না। শুধুমাত্র, অনুমেদিত ডিভাইস পেয়ে থাকে। যেমন: গ্রুপ চ্যাটিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, ইমেইল ইত্যাদি। মাল্টিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশনে হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স হতে পারে।
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆
সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা
এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা পাঠানোর দিক বা ধরনকে ট্রান্সমিশন মোড বলে। তিন ধরনের: সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স, ফুল-ডুপ্লেক্স । এর বাইরে একজন থেকে অনেকে একসাথে পায় — একে ব্রডকাস্ট বলে।
ট্রান্সমিশন মোডের তুলনামূলক চিত্র
| বিষয় | সিমপ্লেক্স | হাফ-ডুপ্লেক্স | ফুল-ডুপ্লেক্স |
|---|---|---|---|
| দিক | শুধু একদিকে | দুই দিকে, কিন্তু একসময়ে একদিকে | দুই দিকে একই সাথে |
| উদাহরণ | কীবোর্ড, রেডিও, টিভি | ওয়াকি-টকি | টেলিফোন, মোবাইল |
| চ্যানেল | একটি, একমুখী | একটি, পালা করে ব্যবহার | দুটি বা দ্বিমুখী ক্ষমতা |
| গতি/দক্ষতা | কম নমনীয় | মাঝারি | সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: সিমপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: দুটির সংজ্ঞা ও চিত্র → দিক, গতি, উদাহরণের তুলনা → উদ্দীপকে যদি পারস্পরিক কথোপকথন লাগে তবে ফুল-ডুপ্লেক্স; শুধু তথ্য পাঠানো হলে সিমপ্লেক্সই যথেষ্ট ও সস্তা → সিদ্ধান্ত।
আরেকটি সম্ভাব্য প্রশ্ন
সম্ভাব্য প্রশ্ন: ব্রডকাস্ট ট্রান্সমিশন মোড ব্যাখ্যা করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (গ)]
উত্তরের কাঠামো: একটি উৎস থেকে একসাথে অনেক গ্রাহকের কাছে ডেটা যায়। গ্রাহক ফিরতি উত্তর দেয় না। উদাহরণ: রেডিও-টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচার; চিত্রে ১টি প্রেরক থেকে ৩ গ্রাহক এঁকে দেখাও।
MCQ পয়েন্ট
ওয়াকি-টকি = হাফ-ডুপ্লেক্স • মোবাইল ফোন = ফুল-ডুপ্লেক্স • কীবোর্ড থেকে কম্পিউটার = সিমপ্লেক্স • রেডিও/টিভি সম্প্রচার = ব্রডকাস্ট
যার মধ্য দিয়ে ডেটা উৎস্য থেকে গন্তব্যে পৌছায় তাকে ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বলে। ডেটা কমুউনিকেশন মাধ্যম দুই ধরনের:-
গাইডেড মাধ্যম (তার মাধ্যম)
ক্যাবলের ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য গাইডেট মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে:- কো-এক্সিয়েল ক্যাবল, টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, ফাইবার অপটিক ক্যাবল
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল
কোএক্সিয়াল ক্যাবল কপার বা তামা দ্বারা নির্মিত। এই ক্যাবলের কেন্দ্রস্থলে একটি তামার তারের পরিবাহী থাকে। সেই পরিবাহীকে ঘিরে প্লাস্টিকের অপরিবাহী এবং অপরিবাহী স্তরকে ঘিরে একটি জাল বা শিল্ড থাকে। বাইরের ফয়েল শিল্ড এবং কেন্দ্রীয় তামার তার একই অক্ষ থাকায় একে কোএক্সিয়াল ক্যাবল বলা হয়। সর্বশেষ, বাইরে একটি কালো রঙের প্লাস্টিকের জ্যাকেট থাকে। ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে এবং বৈজ্ঞনিক গবেষণায় ল্যাবরেটরিতে এ ক্যাবলটি ব্যবহার করা হয়। এ ক্যাবলের সাহায্যে ডিজিটাল এবং এনালগ উভয় ধরনের ডেটা প্রেরণ করা যায়।
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল ২ ধরনের:-থিননেট এবং থিকনেট
১। থিননেট: এ ক্যাবলের ব্যাস ০.২৫ ইঞ্চি এবং এটি নমনীয় ও হালকা। এ ক্যাবল রিপিটার ছাড়া ১৮৫ মিটার পর্যন্ত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। থিননেট ক্যাবল ১০ বেজ ২ (10 Base 2) নামেও পরিচিত। এখানে 10 হচ্ছে 10MBPS ব্যান্ডউইথ এবং 2 দ্বারা বুঝানো হয় ক্যাবলের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ 200 মিটার (যদিও ১৮৫ মিটার হয়)।
১। থিকনেট: এ ক্যাবলের ব্যাস ০.৫ ইঞ্চি এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, ভারী এবং এটি ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। এ ক্যাবল রিপিটার ছাড়া ৫০০ মিটার পর্যন্ত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। থিননেট ক্যাবল ১০ বেজ ৫ (10 Base 5) নামেও পরিচিত। এখানে 10 হচ্ছে 10MBPS ব্যান্ডউইথ এবং 5 দ্বারা বুঝানো হয় ক্যাবলের দৈর্ঘ্য 500 মিটার।
ক্যাবল কানেক্টর: কোএক্সিয়েল ক্যাবলে BNC (Bayonet Neil-Concelman) কানেক্টর ব্যবহার করা হয়।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল
এই ধরনের ক্যাবলে তারগুলো পেঁচানো ও জোড়ায় জোড়ায় থাকে বলে একে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল বলা হয়। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে কপার নির্মিত চার জোড়া তার একটি ইনসুলেটর বা অপরিবাহী দ্বারা আবৃত থাকে। প্রতি জোড়ায় সাদা রঙের একটি তার এবং অন্য রঙের (যেমন: সবুজ, নীল, কমলা, বাদামি) তার থাকে। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় দামে সস্তা।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহার করে ১০০ মিটার পর্যন্ত দূরুত্বে 1MBPS থেকে 1GBPS পর্যন্ত ডেটা স্থানান্তর করা যায়। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, টেলিফোনে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ২ ধরনের:-
১। STP: STP এর পূর্ণরূপ Shielded Twisted Pair এই ধরনের ক্যাবলে প্রতি জোড়ায় তারে আলাদা আবরণ থাকে। STP বেশ ধরনের হতে পারে। এদের মধ্যে CAT-5 এবং CAT-6 সবচেয়ে জনপ্রিয়।
২। UTP: UTP এর পূর্ণরূপ Unshielded Twisted Pair এই ধরনের ক্যাবলে প্রতি জোড়ায় তারে আলাদা আবরণ থাকে না। এটি সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল।
ক্যাবল কানেক্টর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এ RJ45 কানেক্টর ব্যবহার করা হয়।
কোএক্সিয়াল ক্যাবলের ডেটা ট্রান্সমিশন গতি টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তুলনায় বেশী।
ফাইবার অপটিক ক্যাবল
অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন প্রক্রিয়ায় অপটিক্যাল ফাইবার আলো পরিবহন করে। এ ক্যাবল বাকা করলে ডেটা লস হয় বলে ক্যাবলের ভিতরে একটি সরু ধাতব রড ঢুকিয়ে রাকা হয়। কাচের অপটিক্যাল ফাইবার সাধারণত বালি (silica) থেকে তৈরি করা হয়। অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল অন্তরক পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি তড়িৎচৌম্বক প্রভাবমুক্ত। এছাড়া, এ ক্যাবলের বাইরের আবরণও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যা একটি অন্তরক পদার্থ। এজন্য ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিদ্যুত চৌম্বকীয় প্রভাব বা EMI (Electromagnetic Interference) মুক্ত। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যাকবোন হিসেবে পরিচিত।
ফাইবার অপটিকের তিনটি অংশ থাকে:-
কোর: ভিতরের ড্রাই ইলেকট্রিক কোর যার ব্যাস ০৮ থেকে ১০০ মাইক্রোন হয়ে থাকে। এ অংশের প্রতিসরাংশ সবচেয়ে বেশী।
ক্ল্যাডিং: কোরকে আবদ্ধ করে থাকা বাইরের ডাই-ইলেকট্রিকটি ক্ল্যাডিং নামে পরিচিত। ক্যাডিং এর প্রতিসরাংক কোরের তুলনায় কম।
জ্যাকেট: এটি অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের আবরণ হিসাবে কাজ করে।
অপটিক্যাল ফাইবারের উপাদানের প্রতিসরাংকের উপর ভিত্তি করে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:-
১। স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার: স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার ক্যাবলে কোরের প্রতিসরাংক সমস্ত ক্যাবলে সমান থাকে।
২। গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার: গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার ক্যাবলের কেন্দ্রে প্রতিসরাংক সবচেয়ে বেশী। এ প্রতিসরাংক ব্যাসার্ধ্য বরাবর কমতে থাকে।
কোরের ব্যাসের উপর ভিত্তি করে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়:- ১। সিঙ্গেলমোড ফাইবার এবং ২। সিঙ্গেলমোড ফাইবার।
অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা:-
অপটিক্যাল ফাইবারের অসুবিধা:-
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (কো-অ্যাক্সিয়াল বনাম ফাইবার অপটিক; তার বনাম তারবিহীন)
সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা
ডেটা বা সংকেত পাঠানোর জন্য যে মাধ্যমে তার বা ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তাকে তার মাধ্যম (গাইডেড মিডিয়া) বলে। প্রধান তিনটি: টুইস্টেড পেয়ার, কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল, অপটিক্যাল ফাইবার ।
কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল ও অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন
কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল বনাম ফাইবার অপটিক ক্যাবল
| বিষয় | কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল | ফাইবার অপটিক ক্যাবল |
|---|---|---|
| সংকেতের ধরন | বিদ্যুৎ-সংকেত (তামার তার দিয়ে) | আলোর সংকেত (কাচ/প্লাস্টিক তন্তু) |
| গতি | কম থেকে মাঝারি | অনেক বেশি (লেজার/এলইডি আলো) |
| দূরত্ব | নির্দিষ্ট দূরত্বের পর সংকেত দুর্বল | অনেক দূর পর্যন্ত কম ক্ষয়ে যায় |
| বৈদ্যুতিক ব্যাঘাত | কিছুটা প্রভাবিত হয় | প্রভাবমুক্ত |
| নিরাপত্তা | আড়ি পাতা তুলনামূলক সহজ | আড়ি পাতা কঠিন |
| খরচ ও সংযোগ | সস্তা, সংযোগ সহজ | ব্যয়বহুল, জোড়া লাগানো কঠিন, ভঙ্গুর |
| ব্যবহার | কেবল টিভি, পুরোনো LAN | ইন্টারনেট ব্যাকবোন, সাবমেরিন ক্যাবল |
টুইস্টেড পেয়ার: দুটি ইনসুলেটেড তামার তার পেঁচিয়ে রাখা হয় যেন পরস্পরের ব্যাঘাত কমে। UTP সস্তা ও LAN-এ বহুল ব্যবহৃত; টেলিফোন লাইনেও ব্যবহৃত।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কো-অ্যাক্সিয়াল ও ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: দুটির গঠন (চিত্রসহ) → টেবিলে গতি, দূরত্ব, নিরাপত্তা, খরচ → উদ্দীপকের চাহিদা (দ্রুত ও নিরাপদ হলে ফাইবার; কম খরচে ছোট নেটওয়ার্কে কো-অ্যাক্সিয়াল) → সিদ্ধান্ত।
MCQ পয়েন্ট
ফাইবারে সংকেত = আলো • ফাইবারের অংশ: কোর, ক্ল্যাডিং, জ্যাকেট • কো-অ্যাক্সিয়ালের কেন্দ্রে তামার পরিবাহী • ফাইবার বৈদ্যুতিক ব্যাঘাতমুক্ত
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (Wi-Fi, ব্লুটুথ, ইনফ্রারেড, WPAN, রেডিও বনাম মাইক্রোওয়েভ)
সংজ্ঞা
তার ছাড়া বাতাস বা মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের সাহায্যে ডেটা পাঠানোর মাধ্যমকে ওয়্যারলেস বা আনগাইডেড মিডিয়া বলে।
ওয়্যারলেস মাধ্যম: বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
| মাধ্যম | বৈশিষ্ট্য | ব্যবহার |
|---|---|---|
| রেডিও ওয়েভ | সব দিকে ছড়ায় (অমনিডিরেকশনাল), দেয়াল ভেদ করতে পারে, সস্তা; গতি তুলনামূলক কম, ব্যাঘাত হতে পারে | FM/AM রেডিও, টিভি, মোবাইল |
| মাইক্রোওয়েভ | একমুখী (দৃষ্টি সীমার মধ্যে), বেশি গতি; টাওয়ার ও রিপিটার লাগে, বৃষ্টি-ঝড়ে প্রভাবিত | টাওয়ার থেকে টাওয়ারে সংযোগ, স্যাটেলাইট |
| ইনফ্রারেড | কম দূরত্ব, সামনা-সামনি থাকতে হয়, দেয়াল ভেদ করে না; নিরাপদ ও সস্তা | টিভি/এসির রিমোট |
| ব্লুটুথ | রেডিও তরঙ্গ, প্রায় ১০ মিটার পরিসর, কম শক্তি; দেয়াল ভেদ করতে পারে | হেডফোন, মোবাইল ফাইল শেয়ার |
WPAN (Wireless Personal Area Network)
একজন ব্যক্তির আশপাশের (প্রায় ১০ মিটার) ডিভাইসকে তারবিহীনভাবে যুক্ত করার নেটওয়ার্ক। প্রযুক্তি: ব্লুটুথ, ইনফ্রারেড, জিগবি। উদাহরণ: মোবাইল ↔ ব্লুটুথ হেডফোন ↔ স্মার্টওয়াচ।
তার বনাম তারবিহীন মাধ্যম
তার মাধ্যম: নিরাপদ ও স্থিতিশীল, কিন্তু ক্যাবল বসানো ঝামেলার ও ব্যয়বহুল। তারবিহীন: সহজে স্থাপন, চলাচলের স্বাধীনতা, কিন্তু আড়ি পাতার ঝুঁকি ও আবহাওয়ার প্রভাব বেশি।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: রেডিও ওয়েভ ও মাইক্রোওয়েভের মধ্যে কোনটি উত্তম — বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: রেডিও: সব দিকে ছড়ায়, বাধা ভেদ করে, বড় এলাকায় সম্প্রচারে ভালো, গতি কম। মাইক্রোওয়েভ: সরাসরি দুই বিন্দুর মধ্যে বেশি ডেটা, কিন্তু টাওয়ার ও দৃষ্টি সীমা লাগে। সিদ্ধান্ত: সম্প্রচারে রেডিও; উচ্চগতির পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট লিংকে মাইক্রোওয়েভ।
MCQ পয়েন্ট
ব্লুটুথের পরিসর প্রায় ১০ মিটার • ইনফ্রারেড দেয়াল ভেদ করে না • মাইক্রোওয়েভে দৃষ্টি সীমা (line-of-sight) দরকার • রিমোট কন্ট্রোল = ইনফ্রারেড
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★
সংজ্ঞা
Wi-Fi (Wireless Fidelity): IEEE 802.11 মানের স্থানীয় তারবিহীন নেটওয়ার্ক (WLAN), বাসা, অফিস বা ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট দেয়। WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access): IEEE 802.16 মানের বড় এলাকার তারবিহীন ব্রডব্যান্ড, শহরজুড়ে সংযোগ দিতে পারে।
WPAN, Wi-Fi ও WiMAX-এর কভারেজ এলাকা (ধারণাগত)
ভেতরের বৃত্ত: ব্লুটুথ, ইনফ্রারেড (ব্যক্তিগত); মাঝের বৃত্ত: বাসা, অফিস, ক্যাম্পাসের হটস্পট; বাইরের বৃত্ত: পুরো শহর বা বিস্তীর্ণ এলাকার ব্রডব্যান্ড। (আকার আনুপাতিক নয়, ধারণা বোঝানোর জন্য)
Wi-Fi বনাম WiMAX
| বিষয় | Wi-Fi | WiMAX |
|---|---|---|
| স্ট্যান্ডার্ড | IEEE 802.11 | IEEE 802.16 |
| নেটওয়ার্কের ধরন | WLAN (স্থানীয়) | WMAN (মেট্রোপলিটান) |
| পরিসর | প্রায় ১০০ মিটার | প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত |
| স্থাপন খরচ | কম | বেশি (বড় টাওয়ার লাগে) |
| কোথায় ভালো | বাসা, অফিস, ক্যাফে, ক্যাম্পাস | যেখানে তার বসানো কঠিন, গ্রাম বা বিস্তীর্ণ এলাকা |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: নেটওয়ার্ক স্থাপনে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহারের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: ওয়্যারলেসের সংজ্ঞা → সুবিধা (ক্যাবলের খরচ ও ঝামেলা কম, সহজে সম্প্রসারণ, চলাচলের স্বাধীনতা) → Wi-Fi/WiMAX-এর উদাহরণ → অসুবিধা (নিরাপত্তা ঝুঁকি, সংকেত দুর্বল হওয়া) → সিদ্ধান্ত: নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ব্যবহার যুক্তিযুক্ত।
MCQ পয়েন্ট
Wi-Fi = IEEE 802.11 • WiMAX = IEEE 802.16 • WiMAX-এর পরিসর Wi-Fi-র চেয়ে অনেক বেশি • WiMAX মূলত WMAN
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (২G, ৩G, ৪G, ৫G বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য, GSM)
সংজ্ঞা
মোবাইল ফোন যোগাযোগ প্রযুক্তির ধাপে ধাপে উন্নয়নকে প্রজন্ম (Generation) বলে। প্রতি প্রজন্মে গতি, সেবা ও নিরাপত্তা বেড়েছে। GSM (Global System for Mobile Communications) হলো ২য় প্রজন্মের ডিজিটাল মোবাইল মান, যেখানে সিম কার্ড ব্যবহৃত হয়।
মোবাইল প্রজন্মের বিবর্তন
| প্রজন্ম | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ১G | এনালগ সংকেত; শুধু ভয়েস কল; কল ধরা ও নিরাপত্তা দুর্বল; ডিভাইস বড় |
| ২G | ডিজিটাল সংকেত; ভয়েস কল স্পষ্ট; SMS ও MMS; সিম কার্ড; GSM |
| ৩G | মোবাইল ইন্টারনেট (ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেইল); ভিডিও কল; মাল্টিমিডিয়া; ২G-র চেয়ে অনেক বেশি গতি |
| ৪G | LTE প্রযুক্তি; উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড; HD ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেম; সম্পূর্ণ IP-ভিত্তিক |
| ৫G | ৪G-র চেয়ে বহুগুণ দ্রুত; অতি কম বিলম্ব; একসাথে বহু ডিভাইস সংযোগ (IoT, স্মার্ট সিটি, চালকবিহীন গাড়ি) |
৩য় বনাম ৫ম প্রজন্ম (প্রশ্নে আসা তুলনা)
৩G: মোবাইল ইন্টারনেট ও ভিডিও কল, গতি সীমিত, বেশি বিলম্ব। ৫G: অনেক বেশি গতি, প্রায় তাৎক্ষণিক সাড়া, IoT ও রিয়েল-টাইম অ্যাপ্লিকেশন সমর্থন।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: ৪র্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য লেখো / ৩য় ও ৫ম প্রজন্মের পার্থক্য করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ক/গ)]
উত্তরের কাঠামো: প্রজন্মের সংজ্ঞা → বৈশিষ্ট্য (গতি, সেবা) → উপরের তুলনার মতো পয়েন্ট ধরে ধরে পার্থক্য → উদাহরণ (ভিডিও কল বনাম স্মার্ট সিটি)।
MCQ পয়েন্ট
১G = এনালগ • ২G = ডিজিটাল, GSM, SMS • ৩G = মোবাইল ইন্টারনেট ও ভিডিও কল • ৪G = LTE • GSM-এর পূর্ণরূপ: Global System for Mobile Communications
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★ (সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসা অংশ)
টপোলজি কী
নেটওয়ার্কে কম্পিউটার ও ডিভাইসগুলো যেভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে তার ভৌত বা যৌক্তিক নকশাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। প্রধান ধরন: বাস, স্টার, রিং, মেশ, ট্রি, হাইব্রিড।
বাস ও স্টার টপোলজি
বাস টপোলজি
সব কম্পিউটার একটি মূল ক্যাবলে (ব্যাকবোন) যুক্ত থাকে; ক্যাবলের দুই প্রান্তে টার্মিনেটর লাগানো হয়।
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| কম ক্যাবল লাগে; খরচ কম; ছোট নেটওয়ার্কে সহজে বসানো যায় | মূল ক্যাবল নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ; কম্পিউটার বাড়লে গতি কমে (ডেটা সংঘর্ষ); ত্রুটি খোঁজা কঠিন |
স্টার টপোলজি
সব কম্পিউটার কেন্দ্রীয় সুইচ/হাবে যুক্ত থাকে।
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| একটি কম্পিউটার বা তার নষ্ট হলে বাকিরা চলে; নতুন কম্পিউটার জোড়া সহজ; ত্রুটি দ্রুত ধরা যায়; আজকের LAN-এ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত | কেন্দ্রীয় সুইচ/হাব নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ; বেশি ক্যাবল লাগে, খরচ কিছুটা বেশি |
স্টার টপোলজিতে কেন্দ্রীয় ডিভাইসের কাজ
হাব সব পোর্টে ডেটা ছড়িয়ে দেয়; সুইচ শুধু গন্তব্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠায়। এভাবে এটি নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: নেটওয়ার্ক গঠনে স্টার টপোলজি বর্ণনা করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (গ)]
উত্তরের কাঠামো: সংজ্ঞা → সুইচ/হাব ঘিরে সংযোগের চিত্র → কেন্দ্রীয় ডিভাইসের কাজ → ২টি সুবিধা ও ১টি অসুবিধা। চিত্র আঁকলে অতিরিক্ত নম্বর নিশ্চিত।
MCQ পয়েন্ট
বাসের দুই প্রান্তে টার্মিনেটর • স্টারের কেন্দ্রে সুইচ/হাব • বর্তমান LAN-এ বহুল ব্যবহৃত = স্টার
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★
রিং ও মেশ টপোলজি
রিং টপোলজি
প্রতিটি কম্পিউটার বৃত্তাকারে দুই পাশের কম্পিউটারের সাথে যুক্ত। ডেটা একদিকে ঘোরে এবং টোকেন যার কাছে থাকে সে-ই ডেটা পাঠাতে পারে, তাই সংঘর্ষ হয় না।
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| ডেটা সংঘর্ষ নেই; সব কম্পিউটার সমান সুযোগ পায়; বাসের চেয়ে ভালো গতি | একটি কম্পিউটার বা সংযোগ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক প্রভাবিত; নতুন কম্পিউটার জোড়া ঝামেলার; ত্রুটি খোঁজা কঠিন |
মেশ টপোলজি
প্রতিটি কম্পিউটার বাকি সব কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত। n টি ডিভাইসে মোট লিংক = n(n−1)/২ । যেমন ৫টি ডিভাইসে (৫×৪÷২) = ১০টি লিংক।
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| একটি লিংক নষ্ট হলেও অন্য পথে ডেটা যায়; সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য; নিরাপদ ও দ্রুত | ক্যাবল ও পোর্ট অনেক বেশি লাগে; খরচ ও স্থাপন জটিল; সম্প্রসারণ কঠিন |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: রিং ও মেশ টপোলজির মধ্যে কোনটি সুবিধাজনক তা বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: দুটির সংজ্ঞা ও চিত্র → নির্ভরযোগ্যতা, খরচ, ত্রুটি সহনশীলতার তুলনা → ব্যাংক বা সামরিক নেটওয়ার্কের মতো নির্ভরযোগ্যতা জরুরি হলে মেশ ; খরচ কম রাখা দরকার হলে রিং → সিদ্ধান্ত।
MCQ পয়েন্ট
রিংয়ে ডেটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ = টোকেন • মেশে n টি ডিভাইসে লিংক = n(n−1)/২ • সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য = মেশ
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★★
ট্রি ও হাইব্রিড টপোলজি
| টপোলজি | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ট্রি | স্টারগুলো স্তরে স্তরে (বৃক্ষের মতো) সাজানো; বড় প্রতিষ্ঠানে বিভাগভিত্তিক নেটওয়ার্কের জন্য ভালো; মূল সুইচ নষ্ট হলে নিচের অংশ প্রভাবিত |
| হাইব্রিড | দুই বা বেশি টপোলজির সমন্বয় (যেমন স্টার + বাস); নমনীয় ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য; বড় প্রতিষ্ঠানে উপযোগী; কিন্তু নকশা ও খরচ জটিল |
টপোলজির সারসংক্ষেপ তুলনা
| টপোলজি | খরচ | ত্রুটি ধরা | একটি সংযোগ নষ্ট হলে | উপযোগী |
|---|---|---|---|---|
| বাস | কম | কঠিন | পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ | ছোট/অস্থায়ী |
| স্টার | মাঝারি | সহজ | শুধু সেই কম্পিউটার বাদ | অফিস, স্কুল, ল্যাব |
| রিং | মাঝারি | কঠিন | পুরো নেটওয়ার্ক প্রভাবিত | মাঝারি, নিয়মিত ডেটা প্রবাহে |
| মেশ | সবচেয়ে বেশি | সহজ | অন্য পথে চলে | ব্যাংক, সামরিক |
| ট্রি/হাইব্রিড | বেশি | মাঝারি | মূল অংশের উপর নির্ভর | বিশ্ববিদ্যালয়, বড় কোম্পানি |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: বাস, ট্রি ও স্টার টপোলজির মধ্যে কোনটি সুবিধাজনক — বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: তিনটির সংজ্ঞা ও চিত্র → খরচ, ত্রুটি নির্ণয়, সম্প্রসারণ, নির্ভরযোগ্যতা ধরে তুলনা → প্রতিষ্ঠান ছোট হলে স্টার (সহজ ও নির্ভরযোগ্য), বিভাগভিত্তিক বড় হলে ট্রি , অস্থায়ী ও কম খরচে বাস → সিদ্ধান্ত।
আরেকটি সম্ভাব্য প্রশ্ন
সম্ভাব্য প্রশ্ন: হাইব্রিড টপোলজি ব্যাখ্যা করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (গ)]
উত্তরের কাঠামো: দুই বা তার বেশি টপোলজি মিলিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক → উদাহরণ (স্টার + বাস) → চিত্র → সুবিধা (নমনীয়, সম্প্রসারণযোগ্য) → অসুবিধা (জটিল, ব্যয়বহুল)।
MCQ পয়েন্ট
ট্রি = স্টারের স্তরভিত্তিক সমন্বয় • হাইব্রিড = একাধিক টপোলজির মিশ্রণ • ব্যাংকের মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে মেশ
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆ (LAN, WAN, MAN; সেন্ট্রালাইজড বনাম ডিস্ট্রিবিউটেড; নেটওয়ার্ক ডিভাইস)
নেটওয়ার্কিংয়ের উদ্দেশ্য
রিসোর্স শেয়ার (প্রিন্টার, ইন্টারনেট, ফাইল), দ্রুত যোগাযোগ, ডেটা ব্যাকআপ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, খরচ কমানো।
নেটওয়ার্কের ধরন (এলাকা অনুযায়ী)
| ধরন | এলাকা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| LAN (Local Area Network) | একটি ঘর, ভবন বা ক্যাম্পাস | উচ্চ গতি, কম খরচ, নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে |
| MAN (Metropolitan Area Network) | একটি শহর | একাধিক LAN-এর সংযোগ, মাঝারি খরচ |
| WAN (Wide Area Network) | দেশ বা মহাদেশ জুড়ে | কম গতি তুলনামূলক, বেশি খরচ; ইন্টারনেট সবচেয়ে বড় WAN |
LAN ও WAN-এর মধ্যে কোনটি বেশি উত্তম? (প্রশ্নে আসা)
ছোট এলাকায় দ্রুত ও সস্তা সংযোগ চাইলে LAN (গতি বেশি, নিরাপত্তা নিজের হাতে); একাধিক শহর বা দেশের শাখাকে যুক্ত করতে চাইলে WAN । তাই প্রয়োজন ও আয়তন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সেন্ট্রালাইজড বনাম ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক
| বিষয় | সেন্ট্রালাইজড (ক্লায়েন্ট-সার্ভার) | ডিস্ট্রিবিউটেড (পিয়ার-টু-পিয়ার) |
|---|---|---|
| নিয়ন্ত্রণ | কেন্দ্রীয় সার্ভার সব নিয়ন্ত্রণ করে | প্রতিটি কম্পিউটার সমান, নিজেই সার্ভার ও ক্লায়েন্ট |
| নিরাপত্তা | সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, বেশি নিরাপদ | তুলনামূলক কম নিরাপদ |
| ব্যর্থতা | সার্ভার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক প্রভাবিত | একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে অন্যরা চলে |
| খরচ | সার্ভারের কারণে বেশি | কম, ছোট নেটওয়ার্কে উপযোগী |
নেটওয়ার্ক ডিভাইস
| ডিভাইস | কাজ |
|---|---|
| হাব | সব পোর্টে ডেটা ছড়িয়ে দেয় |
| সুইচ | শুধু গন্তব্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠায় (MAC ঠিকানা দেখে), একই LAN-এ |
| রাউটার | ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে, IP ঠিকানা দেখে সেরা পথ বাছে |
| গেটওয়ে | ভিন্ন প্রোটোকলের নেটওয়ার্ককে যুক্ত ও অনুবাদ করে; নেটওয়ার্কের প্রবেশ-প্রস্থান দরজা |
| মডেম | ডিজিটাল ↔ এনালগ সংকেত রূপান্তর (Modulator-Demodulator) |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: গেটওয়ে ও সুইচের তুলনামূলক সুবিধা ব্যাখ্যা করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: সুইচ একই নেটওয়ার্কের ডিভাইস যুক্ত করে ও ডেটা শুধু প্রাপকের কাছে পাঠায় → গেটওয়ে ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ ও প্রোটোকল রূপান্তর করে → একই LAN-এ সুইচ, বাইরের/ভিন্ন নেটওয়ার্কে গেটওয়ে।
MCQ পয়েন্ট
LAN = Local Area Network • ইন্টারনেট = সবচেয়ে বড় WAN • মডেম ডিজিটাল-এনালগ রূপান্তর করে • সুইচ ডেটা শুধু গন্তব্যে পাঠায়
AHP সাজেশন — গুরুত্ব: ★★☆ (সেবার ধরন, উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা)
সংজ্ঞা
ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের সার্ভারে থাকা স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও কম্পিউটিং শক্তি চাহিদামতো ব্যবহার করার সেবাকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। যত ব্যবহার তত খরচ (pay-as-you-use)।
সহজ উদাহরণ
Google Drive-এ ফাইল রাখা ও যেকোনো ফোন থেকে খোলা; Gmail বা Google Docs ব্যবহার; অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্স।
ক্লাউড কম্পিউটিং ও তার তিন সেবা
| সেবা | অর্থ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| SaaS | তৈরি সফটওয়্যার ইন্টারনেটে ব্যবহার | Gmail, Google Docs |
| PaaS | অ্যাপ তৈরি ও চালানোর প্ল্যাটফর্ম | অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পরিবেশ |
| IaaS | সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক ভাড়ায় | ভার্চুয়াল সার্ভার ভাড়া |
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| প্রাথমিক বিনিয়োগ কম (নিজস্ব সার্ভার কিনতে হয় না); চাহিদামতো বাড়ানো-কমানো; যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহার; ডেটা ব্যাকআপ; দলগত কাজ সহজ | ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবহার কঠিন; ডেটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি; দীর্ঘমেয়াদে সাবস্ক্রিপশন খরচ |
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরের কাঠামো
সম্ভাব্য প্রশ্ন: ক্লাউড কম্পিউটিং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ — উক্তিটি বিশ্লেষণ করো [সৃজনশীল প্রশ্ন (ঘ)]
উত্তরের কাঠামো: ক্লাউডের সংজ্ঞা → নতুন উদ্যোক্তার সমস্যা (মূলধন কম, সার্ভার কেনা ব্যয়বহুল) → ক্লাউডে অল্প খরচে শুরু, দরকারমতো বাড়ানো, যেকোনো স্থান থেকে কাজ → ঝুঁকি (ইন্টারনেট ও নিরাপত্তা) → সিদ্ধান্ত: সুবিধাই বেশি, তাই উক্তিটি যথার্থ।
MCQ পয়েন্ট
Gmail = SaaS • ক্লাউড সেবা: SaaS, PaaS, IaaS • ক্লাউডে খরচ ব্যবহার অনুযায়ী • ক্লাউডের জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজন
HSC ICT ২০২৭ — চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য সাজেশন (অধ্যায় ২: কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং)
এই অধ্যায়ের গুরুত্ব
বোর্ড প্রশ্নের বিশ্লেষণে এই অধ্যায় থেকে সৃজনশীল ও MCQ দুটোতেই বেশি প্রশ্ন এসেছে। বিশেষ করে নেটওয়ার্ক টপোলজি, ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, মোবাইল প্রজন্ম ও তার মাধ্যম থেকে প্রায় প্রতি বছর প্রশ্ন থাকে।
অধ্যায় ২-এর টপিক ম্যাপ
| টপিক | গুরুত্ব | কোন ধরনের প্রশ্ন আসে |
|---|---|---|
| নেটওয়ার্ক টপোলজি | ★★★ | স্টার, রিং, মেশ, বাস, ট্রি, হাইব্রিড — কোনটি বেশি সুবিধাজনক (সবচেয়ে বেশি এসেছে) |
| ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন | ★★★ | Wi-Fi বনাম WiMAX, ব্লুটুথ, ইনফ্রারেড, WPAN, রেডিও বনাম মাইক্রোওয়েভ |
| মোবাইল যোগাযোগের প্রজন্ম | ★★★ | ২G, ৩G, ৪G, ৫G বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য, GSM |
| তার মাধ্যম | ★★★ | কো-অ্যাক্সিয়াল বনাম ফাইবার অপটিক; তার বনাম তারবিহীন |
| ট্রান্সমিশন মোড | ★★☆ | সিমপ্লেক্স, হাফ ও ফুল ডুপ্লেক্স, ব্রডকাস্ট; তুলনা |
| কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং | ★★☆ | LAN, WAN, MAN; সেন্ট্রালাইজড বনাম ডিস্ট্রিবিউটেড; নেটওয়ার্ক ডিভাইস |
| ক্লাউড কম্পিউটিং | ★★☆ | সেবার ধরন, উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা |
| ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি, ব্যান্ডউইডথ | ★☆☆ | সিনক্রোনাস/অ্যাসিনক্রোনাস, সিরিয়াল/প্যারালাল (বেশিরভাগ MCQ-তে) |
পড়ার ক্রম
প্রথমে ★★★ চারটি টপিক, তারপর ★★☆। টপোলজির ডায়াগ্রাম নিজে হাতে এঁকে অভ্যাস করো — চিত্র আঁকলে সৃজনশীলে সহজে নম্বর আসে।
সৃজনশীল উত্তরের কৌশল (এই অধ্যায়ের জন্য)
প্রশ্ন ১
উদ্দীপক: একটি কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে ২০টি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত। একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিগুলো স্বাভাবিক চলে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এখন ভবনগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিরাপদ সংযোগের জন্য এমন ক্যাবল ব্যবহার করতে চায় যেখানে আলোর সংকেত চলে।
ক. টপোলজি কী? (১)
খ. বাস টপোলজিতে টার্মিনেটর ব্যবহার করা হয় কেন? (২)
গ. ল্যাবের নেটওয়ার্কের টপোলজিটি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. ভবনগুলোর সংযোগের জন্য কো-অ্যাক্সিয়াল না ফাইবার অপটিক ক্যাবল বেশি উপযোগী — বিশ্লেষণ করো। (৪)
উত্তরের ইঙ্গিত: গ → স্টার টপোলজি (সুইচ, চিত্র, সুবিধা-অসুবিধা)। ঘ → ফাইবারের গতি, দূরত্ব, নিরাপত্তা বনাম খরচ; সিদ্ধান্ত: দ্রুত ও নিরাপদ চাহিদায় ফাইবার।
প্রশ্ন ২
উদ্দীপক: রাফি তার ফোন থেকে ব্লুটুথ হেডফোনে গান শোনে। সে বাসায় রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালায়। তার গ্রামের বাড়িতে তার-ক্যাবলের ইন্টারনেট নেই, কিন্তু বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সংযোগ দেওয়া যায় এমন একটি প্রযুক্তির কথা সে শুনেছে।
ক. WPAN কী? (১)
খ. ইনফ্রারেড দিয়ে দেয়ালের ওপাশে ডেটা পাঠানো যায় না কেন? (২)
গ. রাফির বাসার ইন্টারনেট সংযোগের প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. গ্রামের বাড়ির জন্য রাফির শোনা প্রযুক্তিটির যৌক্তিকতা Wi-Fi-র সাথে তুলনা করে বিশ্লেষণ করো। (৪)
উত্তরের ইঙ্গিত: গ → Wi-Fi (IEEE 802.11, ≈১০০ মি.)। ঘ → WiMAX (IEEE 802.16, ≈৫০ কি.মি.) বিস্তীর্ণ এলাকায় সুবিধাজনক, যদিও খরচ বেশি।
প্রশ্ন ৩
উদ্দীপক: একজন নতুন উদ্যোক্তা তার অনলাইন ব্যবসার জন্য নিজস্ব সার্ভার কেনার পরিবর্তে ইন্টারনেটে ভাড়া নেওয়া সার্ভার ও স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। তিনি তার কর্মীদের সাথে ফোনে একসাথে দুজনে কথা বলেন এবং ব্যবসার তথ্য একটি অনলাইন ফাইল-স্টোরেজে রাখেন।
ক. ব্যান্ডউইডথ কী? (১)
খ. ২G ও ৪G-র মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। (২)
গ. ফোনে কথা বলায় ব্যবহৃত ট্রান্সমিশন মোড ব্যাখ্যা করো। (৩)
ঘ. উদ্দীপকের উদ্যোক্তার জন্য সেবাটি কতটা যৌক্তিক — বিশ্লেষণ করো। (৪)
উত্তরের ইঙ্গিত: গ → ফুল-ডুপ্লেক্স (চিত্র, উদাহরণ)। ঘ → ক্লাউড কম্পিউটিং: কম মূলধন, প্রয়োজনমতো বাড়ানো; ঝুঁকি: ইন্টারনেট ও ডেটা নিরাপত্তা; সিদ্ধান্ত।
দ্রুত MCQ রিভিশন (প্রশ্ন ও উত্তর) ★★★
| # | প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|---|
| ১ | ওয়াকি-টকি কোন ট্রান্সমিশন মোডের উদাহরণ? | হাফ-ডুপ্লেক্স |
| ২ | মোবাইল ফোনে একসাথে কথা বলা ও শোনা কোন মোড? | ফুল-ডুপ্লেক্স |
| ৩ | কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো কোন মোড? | সিমপ্লেক্স |
| ৪ | ব্যান্ডউইডথের একক কী? | bps (বিট প্রতি সেকেন্ড) |
| ৫ | অপটিক্যাল ফাইবারে সংকেত কীভাবে চলে? | আলোর সংকেতে |
| ৬ | কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবলের কেন্দ্রে কোন পরিবাহী থাকে? | তামা |
| ৭ | বাস টপোলজির দুই প্রান্তে কী লাগানো হয়? | টার্মিনেটর |
| ৮ | রিং টপোলজিতে ডেটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে কী? | টোকেন |
| ৯ | ৫টি ডিভাইসের ফুল মেশ নেটওয়ার্কে মোট লিংক কয়টি? | ১০টি |
| ১০ | Wi-Fi কোন IEEE স্ট্যান্ডার্ড? | IEEE 802.11 |
| ১১ | WiMAX কোন IEEE স্ট্যান্ডার্ড? | IEEE 802.16 |
| ১২ | ব্লুটুথের পরিসর প্রায় কত? | ১০ মিটার |
| ১৩ | GSM-এর পূর্ণরূপ কী? | Global System for Mobile Communications |
| ১৪ | ৪G মোবাইল প্রযুক্তি কোনটি? | LTE |
| ১৫ | ১G মোবাইল প্রজন্মে সংকেত কেমন ছিল? | এনালগ |
| ১৬ | Gmail ক্লাউডের কোন সেবার উদাহরণ? | SaaS |
| ১৭ | LAN-এর পূর্ণরূপ কী? | Local Area Network |
| ১৮ | শুধু গন্তব্য পোর্টে ডেটা পাঠায় কোন ডিভাইস? | সুইচ |
| ১৯ | ডিজিটাল ও এনালগ সংকেত রূপান্তর করে কোন ডিভাইস? | মডেম |
| ২০ | বড় ডেটার জন্য কোন ট্রান্সমিশন বেশি দক্ষ? | সিনক্রোনাস |
পরীক্ষার আগের দিনের চেকলিস্ট
