ডেটা কমিউনিকেশন এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং অধ্যায়টি অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
কমিউনিকেশন (Communication) শব্দের অর্থ যোগাযোগ। Communication শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Communicare শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে যার মানে 'to share' (আদান-প্রদান)। কমিউনিকেশনে কমপক্ষে দুটি পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
ডেটাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অথবা কোন ডিভাইস থেকে অন্য কোন ডিভাইসে কোন মাধ্যম দ্বারা আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে। ডাটা কমিউনিকেশনের উপদানগুলো হচ্ছে:-
এখানে ডেটা কমিউনিকেশনের মডেল দেখানো হল:-
ট্রান্সমিটার বা প্রেরক ডেটাকে সোর্স থেকে প্রাপ্ত ম্যাসেজকে সিগন্যালে রূপান্তর করে মাধ্যমে পাঠায়। যার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান হয় সেটিই মাধ্যম। মাধ্যম তারযুক্ত এবং তারবিহীন হতে পারে। রিসিভার বা গ্রাহক মাধ্যম থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে সেটা ম্যাসেজে রূপান্তর করে ডেস্টিনেশনে পাঠায়।
ব্যান্ডউইথ
ডেটা স্থানান্তরের হারকে ব্যান্ডউইথ বলে। অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমান ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় তাকে ব্যান্ডউইথ বলে। ব্যান্ডউইথ পরিমাপের একক হচ্ছে bps (bit per second)
একটি চ্যানেল ৫ সে. ৯৬০০ বিট ট্রান্সমিট করতে পারলে তার ব্যান্ডউইডথ (৯৬০০ / ৫ ) = ১৮০০bps.
ডেটা ট্রান্সমিশনের গতিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:-
১। ন্যারোব্যান্ড: ন্যারোব্যান্ডের গতি ৪৫ থেকে ৩০০bps হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত ধীরগতির ডেটা ট্রান্সমিশন। ন্যারোব্যান্ডকে সাবভয়েস ব্যান্ড ও বলা হয়। ওয়াকিটকি ও টেলিগ্রাফে ন্যারোব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
২। ভয়েসব্যান্ড: ভয়েসব্যান্ডের গতি ৯৬০০bps হয়ে থাকে। ভয়েসব্যান্ড ভয়েস ফ্রিকুয়েন্সি নামেও পরিচিত। একসময়, ইন্টারনেটের ডায়ালআপ মডেমে ভয়েসব্যান্ড ব্যবহৃত হতো। টেলিফোন, কিবোর্ড, প্রিন্টার, কার্ডরিডার ইত্যাদি ডিভাইসে ভয়েসব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
৩। ব্রডব্যান্ড: ব্রডব্যান্ডের গতি 1MBPS থেকে 1GBPS হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত উচ্চগতি সম্পন্ন ডেটা ট্রান্সমিশন। ওয়াইফাই, ওয়াইম্যাক্স এ ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।
ডেটা স্থানান্তরের পদ্ধতিকে ডেটা ট্রানমিশন মেথড বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড ২ ধরনের:
প্যারালাল ট্রান্সমিশন
যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরালভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে।
প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশনে অনেক দ্রুতগতিতে ডেটা স্থানান্তরিত হয়। কারণ, একসাথে অসংখ্য লাইনে ডেটা পাঠানো যায়। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে সবগুলো বিট একই সময়ে একই সাথে স্থানান্তরিত হয়। অনেক দূরে ডেটা প্রেরণ করা সম্ভব নয়, ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ৮টি লাইন প্রয়োজন যা ব্যয়বহুল। যেমন: প্রিন্টার, ভিডিও স্ট্রিমিং।
সিরিয়াল ট্রান্সমিশন
যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন বলে।
এ পদ্ধতিতে বিটগুলো একটির পর একটি স্থানান্তরিত হয়। মাত্র একটি করে বিট স্থানান্তরিত হয় বলে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন সাশ্রয়ী। এছাড়াও, এ পদ্ধতিতে অনেক দূরে ডেটা প্রেরণ করা সম্ভব। তবে, এ পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন ধীরগতিসম্পন্ন, একই সময়ে মাত্র একটি বিট স্থানান্তর করা যায়। উদাহরণ: ইউএসবি (Universal Serial Bus)
প্যারালাল এবং সিরিয়াল ট্রান্সমিশনের মধ্যে পার্থক্য:
| প্যারালাল | সিরিয়াল |
|---|---|
| যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরাল ভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। | যে ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন বলে। |
| স্বল্প দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরিত করা যায় | অধিক দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরিত করা যায় |
| ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ৮টি লাইন প্রয়োজন | ৮ বিট প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ১টি লাইন প্রয়োজন |
| প্যারালাল ট্রান্সমিশন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল | সিরিয়াল ট্রান্সমিশন তুলনামূলকভাবে খরচ কম |
সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশনে সিগন্যাল পাঠানোর সময় বিভিন্ন বিটের সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিকে বিট সিনক্রোনাইজেশন বলা হয়।
বিট সিনক্রোনাইজেশনের উপর ভিত্তি করে সিরিয়াল ট্রান্সমিশন ৩ ধরনের:-
০১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
যে পদ্ধতিতে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হয় তাকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক যেকোনো সময় ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে এবং প্রাপক তা গ্রহণ করতে পারে। দুই বা ততোধিক ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার জন্য মাঝখানে বিরতি প্রয়োজন হয়। এ বিরতি সমান কিংবা ভিন্ন হতে পারে। প্রতিটি ক্যারেক্টারের শুরুতে একটি স্টার্ট বিট এবং শেষে দুটি স্টপ বিট থাকে। ফলে ১ ক্যারেক্টার বা ৮বিট ডেটা স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য ১১ বিটের ডেটায় রূপান্তর হয়ে ট্রান্সমিট হয়।
কিবোর্ড, মাউস, কার্ড রিডার, প্রিন্টার ইত্যাদি ডিভাইসে ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য অ্যাসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবহৃত হয়।
সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
যে পদ্ধতিতে প্রথমে ডেটাকে প্রেরক স্টেশনের প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং ডেটার ক্যারেক্টারসমূহ ব্লক আকারে ভাগ করে ডেটা ট্রান্সমিট করা হয় তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। প্রতিটি ব্লকে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১৩২টি ক্যারেক্টার থাকে। এ পদ্ধতিতে স্টার্ট বা স্টপ বিট প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতিতে ডেটা খুব দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিট হয়। ফলে ডেটা ট্রান্সমিশনে সময় কম লাগে। এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতির গতি তুলনামূলকভাবে বেশী। সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রতিটি ব্লক ডেটার শুরুতে একটি হেডার ইনফরমেশন এবং শেষে একটি টেলার ইনফরমেশন যুক্ত করতে হয়।
অ্যাসিনক্রোনাস এবং সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের মধ্যে পার্থক্য:
| অ্যাসিনক্রোনাস | সিনক্রোনাস |
|---|---|
| অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ক্যারেক্টার আকারে ট্রান্সমিট হয়। | সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ক্যারেক্টার আকারে ট্রান্সমিট হয়। |
| প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস প্রয়োজন হয় না। | প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস প্রয়োজন হয়। |
| শুরুতে Start এবং Stop বিটের প্রয়োজন হয়। | শুরুতে Start এবং Stop বিটের প্রয়োজন হয় না। |
| এ ট্রান্সমিশনের গতি ও দক্ষতা কম | এ ট্রান্সমিশনের গতি ও দক্ষতা বেশী |
আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন
অ্যানসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস পদ্ধতির মিশ্র পদ্ধতি-ই হচ্ছে আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন। এ পদ্ধতিতে একাধিক ব্লকের মধ্যে বিরতি প্রায় শুন্য। তাই, এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন ডিলে সর্বনিম্ন হয়। মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন, অডিও এবং ভিডিও কলের ক্ষেত্রে আইসোক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবহৃত হয়।
উৎস থেকে গন্তব্যে ডেটা স্থানান্তরের প্রবাহের দিককে ডেটা ট্রানমিশন মোড বলে। ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ৩ ধরনের:- সিমপ্লেক্স, হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স।
সিমপ্লেক্স মোড
যে পদ্ধতিতে ডেটা শুধুমাত্র একদিকে প্রেরণ করা যায় তাকে সিমপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে, যোগাযোগটি একমুখী হয়, অর্থাৎ এক দিকে ডেটা প্রবাহিত হয়। একটি ডিভাইস কেবলমাত্র ডেটা প্রেরণ করতে পারে তবে তা গ্রহণ করতে পারে না অথবা এটি ডেটা গ্রহণ করতে পারে তবে ডেটা প্রেরণ করতে পারে না। যেমন: রেডিও, টেলিভিশন, মাউস, কিবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো ইত্যাদি।
হাফ ডুপ্লেক্স মোড
যে পদ্ধতিতে উভয়দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় তবে এক সাথে নয় তাকে হাফ ডুপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা উভয় দিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু একসাথে নয়। কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকে একই সময়ে একদিকে ব্যবহার করা হয়। হাফডুপ্লেক্স মোডে উভয় ডিভাইসই ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে এবং ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় কমিউনিকেশন চ্যানেলের পুরো ব্যান্ডউইথকেও ব্যবহার করতে পারে। তবে, হাফডুপ্লেক্স মোডে যখন একটি ডিভাইস ডেটা প্রেরণ করে, তখন অন্যটিকে অপেক্ষা করতে হবে, এতে সঠিক সময়ে ডেটা প্রেরণে বিলম্বের কারণ ঘটায়। যেমন: ওয়াকিটকি।
ফুল ডুপ্লেক্স
যে পদ্ধতিতে একইসাথে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় ফুল ডুপ্লেক্স বলে।
এই ডেটা ট্রান্সমিশন মোডে ডেটা একই সময়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়। উভয় স্টেশন একই সাথে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে। ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে দুটি সিমপ্লেক্স চ্যানেল থাকে। যার একটি চ্যানেলের ট্র্যাফিক একদিকে প্রবাহিত হয় এবং অন্য চ্যানেলে ট্র্যাফিক বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন: মোবাইল।
ডেটা গ্রহণ ও প্রাপকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ৩ ধরনের:- ইউনিকাস্ট, ব্রডকাস্ট এবং মাল্টিকাস্ট।
ইউনিকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে শুধুমাত্র একটি গ্রাহকই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাকে ইউনিকাস্ট বলে।
এ ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে কোন ডেটা প্রেরণ করা হলে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ একটি প্রেরকই তা গ্রহণ করতে পারে। তাই, এটি One to One মোড নামেও পরিচিত। ইউনিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশনে সিমপ্লেক্স, হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স হতে পারে। যেমন: মোবাইল, টেলিফোন, এসএমএস ইত্যাদি।
ব্রডকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে নেটওয়ার্কে আওতাধীন সকলেই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাকে ব্রডকাস্ট বলে।
এ ট্রান্সমিশন মোডে প্রেরিত ডেটা নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সকল প্রাপক ডেটা গ্রহণ করতে পারে। যেমন: রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠান সকলেই উপভোগ করতে পারে। এটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি One to All নামেও পরিচিত। ব্রডকাস্ট ট্রান্সমিশনে শুধুমাত্র সিমপ্লেক্স ডেটা ট্রান্সমিশন হতে পারে।
মাল্টিকাস্ট
যে পদ্ধতিতে একটি প্রেরক থেকে ডেটা শুধুমাত্র অনুমোদিত সদস্যগণ গ্রহণ করতে পারে তাকে মাল্টিকাস্ট বলে।
মাল্টিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে একটি ডিভাইস থেকে তথ্য প্রেরণ করলে ঐ নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সবাই তথ্য পায় না। শুধুমাত্র, অনুমেদিত ডিভাইস পেয়ে থাকে। যেমন: গ্রুপ চ্যাটিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, ইমেইল ইত্যাদি। মাল্টিকাস্ট ডেটা ট্রান্সমিশনে হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স হতে পারে।
যার মধ্য দিয়ে ডেটা উৎস্য থেকে গন্তব্যে পৌছায় তাকে ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বলে। ডেটা কমুউনিকেশন মাধ্যম দুই ধরনের:-
গাইডেড মাধ্যম (তার মাধ্যম)
ক্যাবলের ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য গাইডেট মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে:- কো-এক্সিয়েল ক্যাবল, টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, ফাইবার অপটিক ক্যাবল
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল
কোএক্সিয়াল ক্যাবল কপার বা তামা দ্বারা নির্মিত। এই ক্যাবলের কেন্দ্রস্থলে একটি তামার তারের পরিবাহী থাকে। সেই পরিবাহীকে ঘিরে প্লাস্টিকের অপরিবাহী এবং অপরিবাহী স্তরকে ঘিরে একটি জাল বা শিল্ড থাকে। বাইরের ফয়েল শিল্ড এবং কেন্দ্রীয় তামার তার একই অক্ষ থাকায় একে কোএক্সিয়াল ক্যাবল বলা হয়। সর্বশেষ, বাইরে একটি কালো রঙের প্লাস্টিকের জ্যাকেট থাকে। ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে এবং বৈজ্ঞনিক গবেষণায় ল্যাবরেটরিতে এ ক্যাবলটি ব্যবহার করা হয়। এ ক্যাবলের সাহায্যে ডিজিটাল এবং এনালগ উভয় ধরনের ডেটা প্রেরণ করা যায়।
কো-এক্সিয়াল ক্যাবল ২ ধরনের:-থিননেট এবং থিকনেট
১। থিননেট: এ ক্যাবলের ব্যাস ০.২৫ ইঞ্চি এবং এটি নমনীয় ও হালকা। এ ক্যাবল রিপিটার ছাড়া ১৮৫ মিটার পর্যন্ত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। থিননেট ক্যাবল ১০ বেজ ২ (10 Base 2) নামেও পরিচিত। এখানে 10 হচ্ছে 10MBPS ব্যান্ডউইথ এবং 2 দ্বারা বুঝানো হয় ক্যাবলের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ 200 মিটার (যদিও ১৮৫ মিটার হয়)।
১। থিকনেট: এ ক্যাবলের ব্যাস ০.৫ ইঞ্চি এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, ভারী এবং এটি ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। এ ক্যাবল রিপিটার ছাড়া ৫০০ মিটার পর্যন্ত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। থিননেট ক্যাবল ১০ বেজ ৫ (10 Base 5) নামেও পরিচিত। এখানে 10 হচ্ছে 10MBPS ব্যান্ডউইথ এবং 5 দ্বারা বুঝানো হয় ক্যাবলের দৈর্ঘ্য 500 মিটার।
ক্যাবল কানেক্টর: কোএক্সিয়েল ক্যাবলে BNC (Bayonet Neil-Concelman) কানেক্টর ব্যবহার করা হয়।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল
এই ধরনের ক্যাবলে তারগুলো পেঁচানো ও জোড়ায় জোড়ায় থাকে বলে একে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল বলা হয়। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে কপার নির্মিত চার জোড়া তার একটি ইনসুলেটর বা অপরিবাহী দ্বারা আবৃত থাকে। প্রতি জোড়ায় সাদা রঙের একটি তার এবং অন্য রঙের (যেমন: সবুজ, নীল, কমলা, বাদামি) তার থাকে। টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল অন্যান্য ক্যাবলের তুলনায় দামে সস্তা।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহার করে ১০০ মিটার পর্যন্ত দূরুত্বে 1MBPS থেকে 1GBPS পর্যন্ত ডেটা স্থানান্তর করা যায়। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, টেলিফোনে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।
টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ২ ধরনের:-
১। STP: STP এর পূর্ণরূপ Shielded Twisted Pair এই ধরনের ক্যাবলে প্রতি জোড়ায় তারে আলাদা আবরণ থাকে। STP বেশ ধরনের হতে পারে। এদের মধ্যে CAT-5 এবং CAT-6 সবচেয়ে জনপ্রিয়।
২। UTP: UTP এর পূর্ণরূপ Unshielded Twisted Pair এই ধরনের ক্যাবলে প্রতি জোড়ায় তারে আলাদা আবরণ থাকে না। এটি সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল।
ক্যাবল কানেক্টর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এ RJ45 কানেক্টর ব্যবহার করা হয়।
কোএক্সিয়াল ক্যাবলের ডেটা ট্রান্সমিশন গতি টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলের তুলনায় বেশী।
ফাইবার অপটিক ক্যাবল
অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন প্রক্রিয়ায় অপটিক্যাল ফাইবার আলো পরিবহন করে। এ ক্যাবল বাকা করলে ডেটা লস হয় বলে ক্যাবলের ভিতরে একটি সরু ধাতব রড ঢুকিয়ে রাকা হয়। কাচের অপটিক্যাল ফাইবার সাধারণত বালি (silica) থেকে তৈরি করা হয়। অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল অন্তরক পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি তড়িৎচৌম্বক প্রভাবমুক্ত। এছাড়া, এ ক্যাবলের বাইরের আবরণও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যা একটি অন্তরক পদার্থ। এজন্য ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিদ্যুত চৌম্বকীয় প্রভাব বা EMI (Electromagnetic Interference) মুক্ত। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যাকবোন হিসেবে পরিচিত।
ফাইবার অপটিকের তিনটি অংশ থাকে:-
কোর: ভিতরের ড্রাই ইলেকট্রিক কোর যার ব্যাস ০৮ থেকে ১০০ মাইক্রোন হয়ে থাকে। এ অংশের প্রতিসরাংশ সবচেয়ে বেশী।
ক্ল্যাডিং: কোরকে আবদ্ধ করে থাকা বাইরের ডাই-ইলেকট্রিকটি ক্ল্যাডিং নামে পরিচিত। ক্যাডিং এর প্রতিসরাংক কোরের তুলনায় কম।
জ্যাকেট: এটি অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের আবরণ হিসাবে কাজ করে।
অপটিক্যাল ফাইবারের উপাদানের প্রতিসরাংকের উপর ভিত্তি করে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:-
১। স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার: স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার ক্যাবলে কোরের প্রতিসরাংক সমস্ত ক্যাবলে সমান থাকে।
২। গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার: গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার ক্যাবলের কেন্দ্রে প্রতিসরাংক সবচেয়ে বেশী। এ প্রতিসরাংক ব্যাসার্ধ্য বরাবর কমতে থাকে।
কোরের ব্যাসের উপর ভিত্তি করে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়:- ১। সিঙ্গেলমোড ফাইবার এবং ২। সিঙ্গেলমোড ফাইবার।
অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা:-
অপটিক্যাল ফাইবারের অসুবিধা:-
যেহেতু, এইচএসসি-২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না, তাই এ অধ্যায়ের বাকী অংশ 15-September-2021 এ অ্যাপটি আপডেট করলেই এ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ অংশ পেয়ে যাবেন।
